সমাজকর্ম ২য় পত্র • সমাজকর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
রিয়াদ বর্তমানে ক্লাসে অমনোযোগী। সে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়েও যায় না। শ্রেণিশিক্ষক বিষয়টি উপলব্ধি করে একজন সমাজকর্মীর সাথে পরামর্শ করে। এখন সে পড়াশোনায় মনোযাগী এবং প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসে।
- ক)(1)
বাংলাদেশে কোন হাসপাতালে প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয়?
- খ)(2)
প্রবীণকল্যাণের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সমাজকর্মের কোন বিশেষায়িত শাখার জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত শাখার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে ১৯৫৮ সালে তৎকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রবীণকল্যাণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রবীণদের সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা। বার্ধক্যজনিত কারণে ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজে অবহেলার শিকার হয়। প্রবীণকল্যাণ কার্যক্রম প্রবীণদের সুস্থ, অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করে এবং তাঁদের উপযুক্ত যত্ন, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজকর্মের 'বিদ্যালয় সমাজকর্ম' (School Social Work) শাখার জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি বিশেষায়িত শাখা, যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় সমস্যা সমাধান করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশে সহায়তা করে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সাথে সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রিয়াদ ক্লাসে অমনোযোগী এবং বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। শ্রেণিশিক্ষক তার এই সমস্যা সমাধানের জন্য একজন সমাজকর্মীর পরামর্শ গ্রহণ করেন। সমাজকর্মী পেশাগত জ্ঞান ও পদ্ধতির মাধ্যমে রিয়াদের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা নিরসন করেন, যার ফলে রিয়াদ পুনরায় পড়াশোনায় মনোযোগী হয় এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা শুরু করে। শিক্ষার্থীদের এরূপ আচরণগত ও শিক্ষাগত সমস্যা সমাধানে বিদ্যালয় সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত শাখাটি হলো 'বিদ্যালয় সমাজকর্ম'। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ফলপ্রসূ ও সার্থক করার ক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান: পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্র্য, মানসিক চাপ বা অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। বিদ্যালয় সমাজকর্মী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমস্যার গভীরে গিয়ে তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
২. বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ: অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে অনিয়মিত হতে হতে একসময় ঝরে পড়ে। বিদ্যালয় সমাজকর্মী তাদের কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনেন।
৩. শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়: শিক্ষার্থী, পরিবার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তুলে বিদ্যালয় সমাজকর্ম শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করে।
৪. মানসিক ও সামাজিক বিকাশ: শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সহপাঠীদের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি এবং বিভিন্ন মানসিক চাপ মোকাবেলায় বিদ্যালয় সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।উদ্দীপকেও রিয়াদের অমনোযোগিতা ও অনুপস্থিতি দূর করতে এই সমাজকর্মীর দক্ষ হস্তক্ষেপ ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। সুতরাং, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক কল্যাণে বিদ্যালয় সমাজকর্মের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও