মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: চৌধুরী সাহেব সর্বদা নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। তিনি মনে করেন, তার বংশের লোক ছাড়া অন্যান্য লোকেরা উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নন। তাদের আচার-ব্যবহার চাল- চলন খুবই নীচুমানের। তিনি চান সবাই তার প্রশংসা করুক, সম্মান করুক। তিনি প্রায়ই অন্যদেরকে হেয় করেন।দৃশ্যকল্প-২: রবি, রাজা ও রাণী একই পাড়ায় বসবাস করেন। দীর্ঘদিন একই পাড়ায় বসবাসের ফলে তাদের পরস্পরের মধ্যে এক ধরনের সখ্যতা গড়ে উঠেছে। পাড়ার লোকেরা বলে, "রবি, রাজা ও রাণীকে পছন্দ করে কিন্তু রাজা, রবিকে পছন্দ করলেও রাণীকে অপছন্দ করেন'

  1. ক)

    পূর্বসংস্কার কী?

    (1)
  2. খ)

    মনোভাব গঠনে পরিবার প্রধান মাধ্যম কেন?

    (2)
  3. গ)

    চৌধুরী সাহেবের মনোভাবে যে বিষয়টি লক্ষ করা যায় তা কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রবি, রাজা ও রাণীর মনোভাবে যে অবস্থা বিরাজ করছে রা পরিবর্তনের পদক্ষেপসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যথাযথ প্রমাণ বা বাস্তব তথ্য ছাড়া কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা দলের প্রতি আগে থেকেই পোষণ করা ইতিবাচক বা প্রধানত নেতিবাচক মনোভাবকে পূর্বসংস্কার (Prejudice) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মনোভাব গঠনে পরিবার প্রধান মাধ্যম কারণ জন্মের পর মানব শিশু প্রথম সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় পরিবারে। মা-বাবা ও পারিবারিক সদস্যদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, পছন্দ-অপছন্দ, আবেগ এবং মূল্যবোধ অনুকরণ ও শিক্ষণের মাধ্যমে শিশুর প্রাথমিক ব্যক্তিত্ব ও মনোভাবের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যা জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি স্থায়ী হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১-এ চৌধুরী সাহেবের মনোভাবে 'পূর্বসংস্কার' ও 'স্বজাতিপ্রীতি' বা দলীয় অহংকার (Ethnocentrism) লক্ষ করা যায়। তিনি নিজ বংশের লোকদের শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং অন্যদের হীন চোখে দেখেন।

    এ ধরনের নেতিবাচক মনোভাব যেভাবে গঠিত হয় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. সামাজিকীকরণ ও পারিবারিক প্রভাব: শৈশবে পরিবার, বংশীয় প্রথা এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে পাওয়া অহংকারী মানসিকতা ও অন্যদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য শুনে এ ধরনের মনোভাব সৃষ্টি হয়।
    ২. শিক্ষণ ও অনুকরণ: সামাজিক পরিবেশে প্রচলিত বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনুকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজ ধারণায় পরিণত করে।
    ৩. অসম্পূর্ণ ও ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ: অন্য বংশ বা সম্প্রদায়ের মানুষের গুণাবলী বিচার না করে ঢালাওভাবে বা স্টেরিওটাইপ ধারণার বশবর্তী হয়ে তাদের নীচুমানের বলে ধরে নেওয়ার ফলে এই মনোভাব গড়ে ওঠে।
    ৪. আত্মঅহমিকা ও হীনমন্যতা পূরণ: নিজের মর্যাদা বড় করে দেখিয়ে অহংকার প্রকাশ করার মাধ্যমে ব্যক্তি মানসিক তৃপ্তি পাওয়ার চেষ্টা করে।

    এভাবেই অপর্যাপ্ত তথ্য, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও সামাজিকীকরণের ত্রুটির মাধ্যমে চৌধুরী সাহেবের মতো অহংকারী ও পূর্বসংস্কারমূলক মনোভাব গঠিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২-এ রবি, রাজা ও রাণীর সম্পর্কের মধ্যে হাইডারের ভারসাম্য তত্ত্ব (Heider's Balance Theory) অনুযায়ী একটি 'ভারসাম্যহীন' (Unbalanced) অবস্থা বিরাজ করছে। রবি রাজা ও রাণী উভয়কে পছন্দ করে (+), রাজা রবিকে পছন্দ করে (+), কিন্তু রাজা রাণীকে অপছন্দ করে (-)। এখানে সম্পর্কের চিহ্নের গুণফল: (+) × (+) × (-) = (-) বা ভারসাম্যহীন।

    ভারসাম্যহীন অবস্থা মানসিক পীড়ন তৈরি করে, তাই এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ বা উপায়সমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে:
    ১. রাজার মনোভাব পরিবর্তন: রবি যদি রাজা ও রাণীর মধ্যে মধ্যস্থতা করে এবং রাজা যদি রাণীর ইতিবাচক গুণাবলী বুঝতে পেরে তাকে পছন্দ করতে শুরু করে (+), তবে সম্পর্কটি সুষম বা ভারসাম্যপূর্ণ হবে [(+) × (+) × (+) = (+)]।
    ২. রবির মনোভাব পরিবর্তন (রাণী সম্পর্কে): রাজা যদি রাণীকে অপছন্দ করে এবং রাজার সাথে সম্পর্কের খাতিরে রবিও যদি রাণীকে অপছন্দ করা শুরু করে (-), তবে সম্পর্কের সমন্বয় ভারসাম্যপূর্ণ হবে [(+) × (-) × (-) = (+)]।
    ৩. রবির মনোভাব পরিবর্তন (রাজা সম্পর্কে): রাজা রাণীকে অপছন্দ করার কারণে রবি যদি রাজাকে অপছন্দ করা শুরু করে (-), তাহলেও সম্পর্কে ভারসাম্য ফিরে আসবে [(-) × (+) × (-) = (+)]।
    ৪. যোগাযোগ ও ভ্রান্ত ধারণা দূরীকরণ: রবি উভয়কে একসাথে আলোচনায় বসিয়ে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি বা অমিল দূর করতে পারে, যার ফলে রাজা ও রাণীর মধ্যে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে।

    সুতরাং, ত্রিমুখী সম্পর্কে বিরাজমান অস্বস্তি দূর করে ভারসাম্য আনার জন্য যেকোনো একটি সম্পর্কের চিহ্নে পরিবর্তন এনে এই অসামঞ্জস্য দূর করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন