মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
হিমেল ও রক্তিম দুইজন প্রতিবেশী। হিমেল নিয়মিত স্কুলে যায়। শিক্ষকগণের নির্দেশ অনুযায়ী সে পড়াশোনা করে বলে শিক্ষকগণও তার খুব প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, রক্তিম পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে স্কুল-কলেজের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে নাই। তবে সমবয়সী দল, বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, হাটবাজার, খেলার মাঠ ইত্যাদি স্থানে তার সরব উপস্থিতি বিদ্যমান। যার ফলে জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান তার রপ্ত হয়েছে।
- ক)(1)
সামাজিকীকরণ কী?
- খ)(2)
পিতামাতা কীভাবে শিশুর সমাজীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত হিমেলের সমাজীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রক্তিমের সমাজীকরণে কোন মাধ্যমের প্রভাব সর্বাধিক? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জীবনব্যাপী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তার সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, প্রথা ও সংস্কৃতি আয়ত্ত করে সমাজের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে, তাকে সামাজিকীকরণ (Socialization) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিতামাতা হলেন শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। শৈশবে পিতামাতার ভালোবাসা, শাসন, নির্দেশনা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। পিতামাতার আচরণ অনুকরণ করে শিশু শৃঙ্খলা, সততা, সহমর্মিতা ও ভাষার বিকাশ ঘটায়, যা পরবর্তীতে তার সামাজিক মূল্যবোধ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত হিমেলের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি মূলত 'বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান' কেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিক সামাজিকীকরণ।
বিদ্যালয় হলো শিশুর সামাজিকীকরণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক মাধ্যম। এখানে শিশু শৃঙ্খলা, নিয়মকানুন, কর্তব্যপরায়ণতা এবং পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান লাভ করে। উদ্দীপকে হিমেল নিয়মিত স্কুলে যায় এবং শিক্ষকদের নির্দেশ অনুযায়ী পড়াশোনা করে। শিক্ষকদের প্রশংসা ও নির্দেশনা তাকে সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক আচরণবিধি, নিয়মানুবর্তিতা ও জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করছে। ফলে হিমেলের সামাজিকীকরণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষকদের ভূমিকা মুখ্য হিসেবে কাজ করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রক্তিমের সামাজিকীকরণে অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম, বিশেষ করে 'সমবয়সী দল বা খেলার সঙ্গী' এবং 'বৃহত্তর সমাজ/প্রতিবেশী পরিবেশের' প্রভাব সর্বাধিক।
যেহেতু রক্তিম পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভ করতে পারেনি, তাই তার সামাজিক বিকাশ ঘটেছে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। তার জীবনে যেসব অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম ভূমিকা রেখেছে:
১. সমবয়সী দল ও খেলার মাঠ: এখানে মিথস্ক্রিয়া বা দলগত কাজের মাধ্যমে সে সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি অর্জন করেছে।
২. হাটবাজার ও সামাজিক অনুষ্ঠান: এসব সামাজিক জনসমাগমে নিয়মিত অংশগ্রহণের ফলে তার মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা, আর্থিক সচেতনতা ও পারিপার্শ্বিক মানুষের সাথে অভিযোজন ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
৩. বাস্তবিক অভিজ্ঞতা: পুঁথিগত শিক্ষার অনুপস্থিতিতে জীবনের ব্যবহারিক নিয়মকানুন ও দায়িত্ববোধ সে সামাজিক পরিবেশ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও অনুকরণের মাধ্যমে আত্মস্থ করেছে।সুতরাং, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতি সত্ত্বেও সমবয়সী দল ও বাস্তব সামাজিক পরিমণ্ডলের নিরবচ্ছিন্ন সংস্পর্শই রক্তিমের জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সামাজিকীকরণে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও