যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
নবী স্যার একটি বেঞ্চের দুই মাথায় ইকরাম ও শিহাবকে বসতে বলেন। কিন্তু পরে পাঠদানের সুবিধার জন্য ইকরামকে শিহাবের জায়গায় এবং শিহাবকে ইকরামের জায়গায় স্থানান্তর করেন। অন্যদিকে, পান্থ স্যার বলেন, সব মানুষ অমর তাই আমরা বলতে পারি, কোনো মানুষ নয় অমর।
- ক)(1)
অমাধ্যম অনুমান কাকে বলে?
- খ)(2)
অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান বলা যায় না কেন?
- গ)(3)
নবী স্যারের কাজটি অমাধ্যম অনুমানের কোন প্রকারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
নবী স্যারের কাজ ও পান্থ স্যারের কথায় কি একই ধরনের অমাধ্যম অনুমান এসেছে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অবরোহ অনুমানে কোনো মাধ্যম বা তৃতীয় কোনো যুক্তিবাক্যের সাহায্য ছাড়া একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে অমাধ্যম অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃত অনুমানের মূল বৈশিষ্ট্য হলো 'জানা থেকে অজানায় গমন' বা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন কোনো সত্যে উপনীত হওয়া। কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্যের বক্তব্যকেই সিদ্ধান্তে ভিন্ন আঙ্গিকে বা ঘুরিয়ে প্রকাশ করা হয়; এতে কোনো নতুন জ্ঞান বা তথ্যের সৃষ্টি হয় না। যেহেতু এখানে কোনো জ্ঞানগত উত্তরণ ঘটে না, কেবল রূপগত পরিবর্তন ঘটে, তাই মিল ও বেইনের মতো অনেক যুক্তিবিদ অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান বলতে নারাজ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নবী স্যারের কাজটি অমাধ্যম অনুমানের 'আবর্তন' (Conversion)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে প্রদত্ত আশ্রয়বাক্যের গুণ অপরিবর্তিত রেখে এর উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদকে বিধিসম্মতভাবে যথাক্রমে সিদ্ধান্তের বিধেয় ও উদ্দেশ্যে রূপান্তর করা হয়, তাকে আবর্তন বলে। আবর্তনের নিয়মানুযায়ী আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য সিদ্ধান্তটিতে বিধেয় হয় এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয় সিদ্ধান্তটিতে উদ্দেশ্য হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নবী স্যার একটি বেঞ্চের দুই মাথায় বসে থাকা ইকরাম ও শিহাবের পারস্পরিক স্থান পরিবর্তন করেন—অর্থাৎ ইকরামকে শিহাবের জায়গায় এবং শিহাবকে ইকরামের জায়গায় বসান। যুক্তিশাস্ত্রে একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের পারস্পরিক স্থান পরিবর্তন করে যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তখন তা হয় আবর্তন। অতএব, নবী স্যারের পারস্পরিক স্থান পরিবর্তনের কাজটি যুক্তিবিদ্যার আবর্তনের নিয়মের সাথে পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবী স্যারের কাজ ও পান্থ স্যারের কথায় একই ধরনের অমাধ্যম অনুমান আসেনি; বরং তাদের মাধ্যমে অমাধ্যম অনুমানের দুটি ভিন্ন রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
নবী স্যারের কাজটিতে অমাধ্যম অনুমানের 'আবর্তন' প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ তিনি বেঞ্চের দুই মাথায় বসা দুই শিক্ষার্থীর জায়গা কেবল অদলবদল (স্থান পরিবর্তন) করেছেন, যা একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের পারস্পরিক স্থান পরিবর্তনের নিয়ম অর্থাৎ আবর্তনকে নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, পান্থ স্যারের বক্তব্যে অমাধ্যম অনুমানের 'প্রতিবর্তন' (Obversion)-এর প্রয়াস বা রূপ ফুটে উঠেছে। প্রতিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়বাক্যের গুণের পরিবর্তন ঘটাতে হয় (যেমন: সদর্থক থাকলে নঞর্থক হয়) এবং উদ্দেশ্য পদ অপরিবর্তিত থাকে। পান্থ স্যারের বক্তব্যে "সব মানুষ অমর" (সদর্থক) থেকে গুণ পরিবর্তন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে "কোনো মানুষ নয় অমর" (নঞর্থক)। যদিও বিধেয়র বিরুদ্ধ পদ ব্যবহার না করায় এটি একটি যুক্তিদোষপূর্ণ প্রতিবর্তন, তথাপি এখানে গুণের পরিবর্তন ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে, যা স্পষ্টতই প্রতিবর্তন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
সুতরাং, নবী স্যারের কাজে পদের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে 'আবর্তন' এবং পান্থ স্যারের কথায় গুণের রূপান্তরের মাধ্যমে 'প্রতিবর্তন' নির্দেশিত হওয়ায় উভয়ের মধ্যে একই ধরনের অমাধ্যম অনুমান প্রকাশ পায়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও