‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব কবির উচ্চ আদালতের একজন বিচারক। আদালতে একটি জটিল মামলার রায় প্রদান করতে গিয়ে বিদ্যমান আইনে কোনো সমাধান না পেয়ে নিজের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি অনুসারে বিচার কাজ সম্পন্ন করেন। ফলে নতুন আইনের সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    অধিকার কী?

    (1)
  2. খ)

    আইন ও স্বাধীনতার সাথে কীরূপ সম্পর্ক বিদ্যমান?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আইনের কোন উৎসের কথা বলা হয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    "উল্লিখিত উৎস ছাড়াও আইনের আরও অন্যান্য উৎস রয়েছে"- ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন ও স্বাধীনতার মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান; এরা পরস্পরের পরিপূরক।

    আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। জন লকের মতে, "যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।" আইন না থাকলে সমাজে 'জোর যার মুলুক তার' পরিস্থিতি তৈরি হতো এবং দুর্বলের স্বাধীনতা খর্ব হতো। আইন সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে স্বাধীনতাকে অর্থবহ ও সুরক্ষিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আইনের অন্যতম উৎস হিসেবে 'বিচারকের রায়' বা 'বিচারিক সিদ্ধান্ত' (Judicial Precedents)-এর কথা বলা হয়েছে।

    আদালতে বিচারকার্য পরিচালনাকালে বিচারকগণ কখনো কখনো এমন জটিল মামলার সম্মুখীন হন, যার সমাধানের জন্য প্রচলিত বা বিদ্যমান আইনে কোনো স্পষ্ট বিধান থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে বিচারকগণ তাঁদের নিজস্ব প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিবেক ও বুদ্ধি অনুসারে মামলার রায় প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য বিচারকগণ অনুরূপ মামলার ক্ষেত্রে পূর্বের সেই রায়কে অনুসরণ করে রায় দেন। এভাবে বিচারকের দেওয়া সিদ্ধান্ত আইনে পরিণত হয়।

    উদ্দীপকে জনাব কবির বিদ্যমান আইনে কোনো সমাধান না পেয়ে নিজের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি অনুসারে রায় প্রদান করেন এবং এর ফলে নতুন আইনের সৃষ্টি হয়, যা সুস্পষ্টভাবে বিচারকের রায়কে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উল্লিখিত উৎস ছাড়াও আইনের আরও অন্যান্য উৎস রয়েছে"— উক্তিটি যথার্থ।

    আইন বিজ্ঞানী হল্যান্ড আইনের প্রধান ছয়টি উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'বিচারকের রায়' ছাড়াও আইনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্রথা (Custom): দীর্ঘকাল ধরে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি ও অভ্যাস যখন রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হয়, তখন তা আইনে পরিণত হয়। যেমন—যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ আইন প্রথানির্ভর।
    ২. ধর্ম (Religion): প্রাচীনকাল থেকেই ধর্ম আইনের একটি অন্যতম প্রধান উৎস। পারিবারিক আইন, বিবাহ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ধর্মীয় বিধান সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে গণ্য হয়।
    ৩. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Discussions): খ্যাতনামা আইনজ্ঞ ও পণ্ডিতদের মতামত ও গবেষণালব্ধ ব্যাখ্যা আইনের অন্যতম উৎস। উদাহরণস্বরূপ, ব্ল্যাকস্টোন ও কোকের রচিত গ্রন্থসমূহ ইংল্যান্ডের আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
    ৪. ন্যায়বোধ (Equity): বিচারক যখন বিদ্যমান আইনের অপ্রতুলতা উপলব্ধি করে ন্যায়নীতি ও বিবেকের আলোকে সিদ্ধান্ত নেন, তখন ন্যায়বোধ আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে।
    ৫. আইনসভা (Legislature): আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের প্রধান ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো আইনসভা। দেশের সার্বিক কল্যাণার্থে আইনসভা নতুন আইন তৈরি ও পুরনো আইন সংশোধন করে থাকে।

    অতএব, উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের আরও বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ উৎস রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন