পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রহমান একজন মানবাধিকার আইনজীবী। নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় তিনি বিশেষভাবে আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকেন। নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি ও কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাওয়ার অধিকার নিয়ে তিনি উচ্চ আদালতে জোরালো ভূমিকা পালন করেন।
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
নৈতিকতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব রহমান নারীদের কোন ধরনের স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা পালন করেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত স্বাধীনতা ছাড়া কি সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো সমাজ বা গোষ্ঠীর এমন কতগুলো সাধারণ বিশ্বাস, ধারণা বা মাপকাঠি, যার মাধ্যমে ব্যক্তির ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ নির্ধারিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নৈতিকতা বলতে মানুষের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত এবং ন্যায়-অন্যায়ের অভ্যন্তরীণ বোধ বা মানদণ্ডকে বোঝায়।
এটি কোনো রাষ্ট্রীয় আইন নয়, বরং ব্যক্তির বিবেক এবং সমাজের সার্বজনীন মূল্যবোধ থেকে উৎসারিত হয়। নৈতিকতা মানুষকে অসৎ কাজ থেকে বিরত রেখে সততা, পরোপকার ও ন্যায়পরায়ণতার পথে চলতে অনুপ্রেরণা দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব রহমান নারীদের 'অর্থনৈতিক স্বাধীনতা' রক্ষায় ভূমিকা পালন করেন।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির এমন সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে সে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে এবং অভাব, বেকারত্ব ও বৈষম্য থেকে মুক্ত থেকে স্বাবলম্বী হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সমান কাজের জন্য সমান মজুরি প্রাপ্তি, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও বেকার ভাতা পাওয়ার অধিকার।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রহমান নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি নিশ্চিত করা, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি এবং বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতার অধিকার নিয়ে আদালতে কাজ করেন। এ কাজগুলো সরাসরি নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মুক্তির সাথে সম্পর্কিত। তাই তিনি নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষার্থেই মূলত ভূমিকা পালন করছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমি মনে করি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া সাম্য প্রতিষ্ঠা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সাম্য বলতে সমাজে বৈষম্যহীন অবস্থা এবং যোগ্যতানুসারে সমান সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতাকে বোঝায়। রাজনৈতিক, সামাজিক বা নাগরিক সাম্য তখনই অর্থবহ হয় যখন সেখানে অর্থনৈতিক সাম্য বা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বিরাজ করে।
উদ্দীপকে জনাব রহমান নারী শ্রমিকদের সমান মজুরি, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা তুলে ধরেছেন, যা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মূল শর্ত। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে একজন ব্যক্তি আর্থিকভাবে দুর্বল থাকে এবং সমাজে শোষিত হয়। একজন নাগরিক যদি ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র থাকে, তবে তার রাজনৈতিক ভোটাধিকার কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্থহীন হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে সমাজের একটি শ্রেণি সুবিধাভোগী থাকে এবং নারী বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী পরনির্ভরশীল হয়ে থাকে, যার ফলে সমাজে বৈষম্য আরও বাড়ে।
অতএব, সমাজে প্রকৃত সমতা বা সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমেই সকল নাগরিকের, বিশেষ করে নারী সমাজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও