সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মারিয়াম ও ফাতেমা দুই বোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।মারিয়াম যেবিষয়টা নিয়ে পড়ছে সেটিকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়। এটির উদ্দেশ্য হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করা। অন্যদিকে ফাতেমার পঠিত বিষয় রাষ্ট্র,সরকারব্যবস্থা, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- ক)(1)
"সমাজবিজ্ঞান সামাজিক ক্রিয়াকর্মের বিজ্ঞান"– উক্তিটি কার?
- খ)(2)
মুখ্য দল কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ফাতেমার অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মারিয়ামের অধ্যয়নের বিষয়টির সাথে ফাতেমার পঠিত বিষয়ের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সমাজবিজ্ঞান সামাজিক ক্রিয়াকর্মের বিজ্ঞান" (Sociology is the science of social action)— উক্তিটি জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)-এর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সামাজিক দলের সদস্যদের মধ্যে মুখোমুখি, প্রত্যক্ষ, ঘনিষ্ঠ এবং আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে, তাকে মুখ্য দল (Primary Group) বলে। সমাজবিজ্ঞানী সি. এইচ. কুলি প্রথম এ ধারণা দেন। মুখ্য দলের আকার সাধারণত ছোট হয় এবং সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও 'আমরা' বোধ দৃঢ় থাকে। পরিবার, খেলার সাথী বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুমহল হলো মুখ্য দলের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফাতেমার অধ্যয়নের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের সহযোগী সামাজিক বিজ্ঞান 'রাষ্ট্রবিজ্ঞান' (Political Science)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সেই শাস্ত্র, যা রাষ্ট্র, সরকারব্যবস্থা, রাজনৈতিক তত্ত্ব, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, ফাতেমার পঠিত বিষয়টি রাষ্ট্র, সরকারব্যবস্থা, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়ই হলো সার্বভৌম রাষ্ট্র ও এর শাসন পরিচালনা এবং রাজনৈতিক কাঠামোর বিশ্লেষণ। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয় যে ফাতেমার অধ্যয়ন বিষয় হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মারিয়ামের অধ্যয়নের বিষয় হলো 'সমাজবিজ্ঞান' এবং ফাতেমার পঠিত বিষয় হলো 'রাষ্ট্রবিজ্ঞান'। উভয়ের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও নিবিড় পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের সামগ্রিক বা পূর্ণাঙ্গ পাঠ, যা সমাজে মানুষের পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে সামগ্রিকভাবে আলোচনা করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সমাজের একটি বিশেষ অংশ— রাজনৈতিক সংগঠন, ক্ষমতা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পাঠ। উভয়ের সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পারস্পরিক নির্ভরতা: রাষ্ট্র হলো সমাজেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জন্য রাজনৈতিক জীবনের সামগ্রিক সামাজিক প্রেক্ষাপট প্রদান করে। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের প্রভাব বুঝতে সমাজবিজ্ঞানকে সাহায্য করে। অধ্যাপক গিডিংসের মতে, "রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাথমিক সূত্রগুলো না জেনে যেমন সমাজবিজ্ঞান পাঠ অসম্ভব, তেমনি সমাজবিজ্ঞানের প্রাথমিক সূত্রগুলো না জেনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ অর্থহীন।"
২. অভিন্ন লক্ষ্য: উভয় শাস্ত্রেরই চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন এবং একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা। অপরাধ, ক্ষমতার অপব্যবহার, নাগরিক অধিকার ইত্যাদি বিষয় উভয় শাস্ত্রেই আলোচিত হয়।সুতরাং, সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান পৃথক দুটি জ্ঞানের শাখা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক ও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও