কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

আরমান আলী বাড়ির কাছের জমিতে মাঠ ফসলের ফলন ভালো পেলেও নদীর ধারের জমিতে তেমন ভালো ফলন পান না। উক্ত জমিকে অধিক উৎপাদনশীল করার জন্য তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলে তাকে সঠিক উপায় বলে দেওয়া হয়। কৃষি কর্মকর্তা তাকে অন্যান্য জমির মাটির বুনট দেখে ফসল নির্বাচনের পরামর্শ দেন। পরামর্শ মোতাবেক আরমান আলী পরের বছর ভালো ফলন লাভে সক্ষম হন। আরমান আলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও ভালো ফলন পেলেন।

  1. ক)

    মাটির বুনট কী?

    (1)
  2. খ)

    মাটিতে জৈব পদার্থের কাজ কী?

    (2)
  3. গ)

    আরমান আলী কীভাবে তার উল্লিখিত জমিকে, অধিকতর ফসল চাষের উপযোগী করলেন?

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া শেষোক্ত পরামর্শটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাটিতে বিদ্যমান বালিকণা, পলিকণা ও কর্দমকণার পারস্পরিক আনুপাতিক হার বা শতকরা পরিমাণকে মাটির বুনট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাটিতে জৈব পদার্থকে ‘মাটির প্রাণ’ বলা হয়। এটি মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাবলি উন্নত করে; মাটির পানি ধারণক্ষমতা এবং বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে; উপকারী অণুজীবের কার্যকলাপ বাড়ায় এবং মাটিতে প্রধান ও গৌণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে মাটির উর্বরতা রক্ষা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরমান আলী মাটির বুনট ও গুণাগুণ অনুযায়ী উপযুক্ত ফসল নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করে নদীর ধারের জমিকে অধিক ফসল চাষের উপযোগী করলেন।

    নদীর ধারের জমি সাধারণত বালুকাময় বা বেলে-দোআঁশ ধরনের হয়, যার পানি ও পুষ্টি ধারণক্ষমতা অত্যন্ত কম থাকে। ফলে সেখানে সাধারণ মাঠ ফসল ভালো হয় না। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী আরমান আলী নদীর ধারের জমির বেলে মাটির বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখে সেখানে প্রচুর পরিমাণে জৈব সার, কম্পোস্ট বা সবুজ সার প্রয়োগ করেছেন, যা মাটির বুনট সংস্কারে এবং পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বেলে বা বেলে-দোআঁশ মাটিতে উপযোগী ফসল যেমন—বাদাম, মিষ্টি আলু, তরমুজ বা ডালজাতীয় ফসল নির্বাচন করে তিনি জমিটিকে অধিক উৎপাদনশীল করতে সক্ষম হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া শেষোক্ত পরামর্শটি ছিল ‘জমির মাটির বুনট দেখে ফসল নির্বাচন করা’, যা কৃষিবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও যৌক্তিক।

    মাটির বুনট মূলত মাটির পানি ধারণক্ষমতা, নিষ্কাশন ক্ষমতা, বায়ু চলাচল এবং পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা নির্ধারণ করে। সব মাটিতে সব ধরনের ফসল ভালো হয় না। যেমন—কাদামাটি বা এঁটেল মাটি ধান চাষের জন্য উপযোগী হলেও ডাল ও কন্দজাতীয় ফসলের জন্য অনুপযোগী। আবার বেলে মাটিতে পানি দাঁড়ায় না বলে বাদাম, তরমুজ ও শাকসবজি ভালো জন্মে এবং দোআঁশ মাটিতে প্রায় সব ধরনের ফসল চাষ করা যায়।

    কৃষি কর্মকর্তার এই পরামর্শ মেনে আরমান আলী ও অন্যান্য কৃষকেরা তাদের ভিন্ন ভিন্ন জমির বুনটের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উপযুক্ত ফসল নির্বাচন করেন। ফলে সার ও পানির অপচয় রোধ হয়েছে, উদ্ভিদের সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে এবং কৃষকরা সর্বোচ্চ ফলন লাভ করেছেন। তাই মাটির বুনট অনুযায়ী ফসল নির্বাচনের পরামর্শটি কৃষকদের কৃষিকাজে সাফল্য এনে দেওয়া একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন