ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৯০ সালে মিয়ানমারে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির দল 'ন্যাশনাল ফর ডেমক্রেসি' বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার সুচির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে না দিয়ে বরং তাকে উল্টো রাষ্ট্রদ্রোহী বলে গৃহবন্দি করে রাখেন।
- ক)(1)
বঙ্গবন্ধু কখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?
- খ)(2)
আগরতলা মামলার উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মিয়ানমারের উক্ত নির্বাচনের সাথে বাংলাদেশের কোন ঐতিহাসিক নির্বাচনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর উক্ত নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা মামলার (যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য') মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি নেতৃবৃন্দকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে ফাঁসিতে ঝুলানো এবং বাঙালির ছয় দফাভিত্তিক স্বাধিকার আন্দোলনকে চিরতরে নস্যাৎ করা। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ তোলে যে আসামিরা ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মিয়ানমারের নির্বাচনের সাথে অবিভক্ত পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও পশ্চিম পাকিস্তানি কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, অং সান সুচির দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করলেও সামরিক জান্তা সরকার ক্ষমতা না দিয়ে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে বন্দি করে। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করা ও সামরিক জান্তার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার এ মানসিকতার দিক থেকে উভয় ঘটনার মধ্যে স্পষ্ট মিল পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নির্বাচিত প্রকৃত প্রতিনিধি। নির্বাচনে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে দ্ব্যর্থহীন রায় প্রদান করে। কিন্তু ইয়াহিয়া খান নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
এই অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের ফলে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়, যা কার্যত অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনগণের এই ম্যান্ডেট বাঙালিকে নৈতিক বলীয়ান করে এবং বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত করে। সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাস্তবায়ন না করার পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রই সরাসরি ও অনিবার্যভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও