ইতিহাস ১ম পত্র • বাংলায় ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রিন্স ফিলিপ অল্প বয়সে উত্তরাধিকারসূত্রে একটি রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেন। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা এমন শাসকের মনোনয়নে সন্তুষ্ট হননি। তারা বহিঃশত্রুর সাথে ষড়যন্ত্র করে শাসক ফিলিপকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করেন। অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাবে তাঁকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়।
- ক)(1)
ভাস্কো-দা-গামা কত খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষে আসেন?
- খ)(2)
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রিন্স ফিলিপের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, শুধুমাত্র বিচক্ষণতার অভাবই তার পরাজয়ের কারণ? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষে আসেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলা ১১৭৬ সালে (ইংরেজি ১৭৭০ সালে) বাংলায় যে ভয়াবহ ও ঐতিহাসিক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, তাকে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বৈতশাসনের ফলে রাজস্বের অতিরিক্ত চাপ, উৎপাদিত ফসলের অপব্যবহার এবং পর পর কয়েক মৌসুম অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে এই কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক সংকট সৃষ্টি হয়। এতে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রিন্স ফিলিপের সাথে পাঠ্যবইয়ের বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
নবাব আলীবর্দী খাঁ তাঁর দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে তরুণ বয়সে বাংলার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই নবাবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন যেমন খালা ঘসেটি বেগম এবং দরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ যেমন মীর জাফর ও রায়দুর্লভ তরুণ নবাবের বিরোধিতা করতে থাকেন। তারা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো বহিঃশত্রুর সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতার সুযোগ নিয়ে বিশ্বাসঘাতকরা তাঁকে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
উদ্দীপকের প্রিন্স ফিলিপও অল্প বয়সে উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা পেয়ে ঘনিষ্ঠদের অসন্তোষ ও বহিঃশত্রুর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে করুণ পরিণতি ভোগ করেন, যা নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমি মনে করি না যে শুধুমাত্র বিচক্ষণতার অভাবই নবাব সিরাজউদ্দৌলা তথা উদ্দীপকের শাসকের পরাজয়ের একমাত্র কারণ ছিল; বরং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায় নবাবের পরাজয়ের পেছনে ঘনিষ্ঠজনদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং ব্রিটিশদের কূটকৌশল প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।
সিরাজউদ্দৌলার রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা, দ্রুত শত্রুর আশ্বাসে বিশ্বাস করা এবং অপরাধীদের বারবার ক্ষমা প্রদর্শন নিঃসন্দেহে তাঁর শাসনকাজে বিচক্ষণতার ঘাটতিকে প্রকাশ করে। বিশেষ করে পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বারবার রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপ লক্ষ্য করা সত্ত্বেও তার কোরআন স্পর্শ করে প্রতিজ্ঞাকে সরলভাবে বিশ্বাস করে যুদ্ধ বন্ধ করা ছিল তাঁর অদূরদর্শিতার প্রকাশ।
তবে কেবল বিচক্ষণতার অভাবকে দায়ী করলে মূল ঐতিহাসিক সত্য আড়ালে চলে যায়। নবাবের সিংহাসনে বসার দিন থেকেই তাঁর পরিবারবর্গ (ঘসেটি বেগম), রাজদরবারের প্রভাবশালী অমাত্য (মীর জাফর, রায়দুর্লভ, জগৎ শেঠ) এবং উচ্চাভিলাষী ইংরেজ বণিকরা একটি সংঘবদ্ধ ও গভীর ষড়যন্ত্র জাল তৈরি করেছিল। সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে দেশীয় বিত্তবান ও সামরিক নেতৃত্বের এক বিরাট অংশ একত্রিত হয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। যুদ্ধে মীর জাফরের অধীনস্থ বিশাল বাহিনী নিষ্ক্রিয় না থাকলে ইংরেজদের পক্ষে জয়লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।
অতএব, সিরাজউদ্দৌলার কিছু কৌশলগত ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাব অবশ্যই ছিল, কিন্তু তাঁর পরাজয় ও নির্মম পরিণতির প্রধানতম কারণ ছিল নিকটাত্মীয় ও অমাত্যদের সম্মিলিত দেশদ্রোহিতা এবং চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও