ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
বিগত সরকার পরপর তিনটি একতরফা নির্বাচনে নিজেদেরকে নির্বাচিত দাবি করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। অথচ সঠিকভাবে জনরায় নিলে তারা নির্বাচিত হতে পারতো না। ফলে তাদের বিরুদ্ধে দেশের অধিকাংশ মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তাদের বিরোধিতা করেছে। অথচ ইতিপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনা করেছে।
- ক)(1)
ইসলামের প্রথম খলিফার নাম কী?
- খ)(2)
খুলাফায়ে রাশেদিন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত একতরফা নির্বাচনের সাথে খুলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচনের পার্থক্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে বর্ণিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতোই খুলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে জনরায় প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামের প্রথম খলিফার নাম হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওফাতের পর ৬৩২ থেকে ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যে চারজন খলিফা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নীতি ও আদর্শকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক ও ন্যায়পরায়ণভাবে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন, তাঁদের শাসনকালকে 'খিলাফতায়ে রাশেদিন' এবং তাঁদেরকে একত্রে 'খুলাফায়ে রাশেদিন' বা ন্যায়পরায়ণ খলিফাগণ বলা হয়। তাঁরা হলেন—হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলি (রা.)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত একতরফা নির্বাচনের সাথে খুলাফায়ে রাশেদিনের খলিফা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী পার্থক্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের একতরফা নির্বাচন ছিল অনৈতিক, জবরদস্তিমূলক এবং সেখানে জনগণের মতামতের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। এটি ছিল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপপ্রয়াস।
পক্ষান্তরে, খুলাফায়ে রাশেদিনের খলিফা নির্বাচন ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ শুরাভিত্তিক, গণতান্ত্রিক এবং পক্ষপাতহীন। ইসলামের কোনো খলিফাই জোরপূর্বক বা একতরফাভাবে ক্ষমতা দখল করেননি। মদিনার বিশিষ্ট সাহাবিদের পরামর্শ (শুরা) এবং সাধারণ মুসলমানদের প্রকাশ্য আনুগত্য বা বাইয়াত গ্রহণের মাধ্যমে খলিফা নির্বাচিত হতেন। সুতরাং, যেখানে উদ্দীপকের নির্বাচন ছিল অন্যায় ও গণবিরোধী, সেখানে খুলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচন ছিল সর্বসম্মত পরামর্শ ও জনগণের সন্তুষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বর্ণিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতোই খুলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষতা ও জনমতের যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে সাধারণত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে জনগণ ভয়হীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। সেখানে জনগণের ইচ্ছাই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
একইভাবে খুলাফায়ে রাশেদিনের চার খলিফার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ, পক্ষপাতিত্ব বা প্রতারণার সুযোগ ছিল না। সাকিফা বনি সায়েদায় আনসার ও মুহাজিরদের খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে হযরত আবু বকর (রা.) নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর মনোনয়নকেও সাধারণ জনগণ সানন্দে বাইয়াত দিয়ে অনুমোদন করে। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) ছয় সদস্যের শুরা কমিটির সার্বিক জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত হন এবং চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা.)-কেও তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসলিমদের সমর্থনে খলিফা করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই সততা, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের পূর্ণ সম্মতি ছিল মুখ্য। সুতরাং, খুলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচনে প্রকৃত জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেছিল—এ বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও