কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৭

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই দরিদ্র। তারা ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন। অর্থনীতিবিদ স্যার ফ্রেডারিক নিকলসন বলেন, "পৃথিবীর ইতিহাসের সাক্ষ্য এই যে, কৃষির জন্য ঋণ অত্যাবশ্যক।"

  1. ক)

    কৃষি অর্থনীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    সমবায় কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আমাদের দেশের কৃষকরা যে সকল উৎস থেকে ঋণ পেতে পারে উদ্দীপকের আলোকে সেগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিকলসনের উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষি অর্থনীতি হলো অর্থনীতির একটি ফলিত শাখা, যেখানে কৃষিজ উৎপাদনের উপকরণ, বণ্টন, বিপণন, অর্থসংস্থান এবং কৃষি খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষকদের একক দুর্বলতা কাটিয়ে সংঘবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা অর্জনের জন্য সমবায় অত্যন্ত প্রয়োজন।
    আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই প্রান্তিক ও দরিদ্র। এককভাবে তাদের পক্ষে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সার ও সেচযন্ত্র ক্রয় করা কিংবা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া সম্ভব হয় না। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকরা একত্রিত হয়ে মূলধন গঠন, সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ, যৌথভাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে পারে। ফলে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের দরিদ্র কৃষকদের ফসল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কৃষকরা সাধারণত দুটি প্রধান উৎস থেকে ঋণ পেয়ে থাকে:

    ১. প্রাতিষ্ঠানিক উৎস: সরকার বা নিয়মতান্ত্রিক আর্থিক ব্যবস্থার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রদত্ত ঋণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ। এর মধ্যে রয়েছে—

    • বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক: কৃষি উন্নয়নের জন্য সরাসরি বিশেষায়িত ব্যাংক।
    • বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ: সোনালী, জনতা, অগ্রণী ইত্যাদিসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ কর্মসূচি।
    • সমবায় ব্যাংক ও সমবায় সমিতি: বিআরডিবি ও অন্যান্য কৃষক সমবায় সমিতি।
    • পল্লী উন্নয়ন সংস্থা ও এনজিও: ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক ইত্যাদির ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম।
      এ সকল উৎস থেকে তুলনামূলক স্বল্প সুদে ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ঋণ পাওয়া যায়।

    ২. অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস: প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা বা জামানতের অভাবে কৃষকরা সহজেই পরিচিত অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নেয়। যেমন—

    • মহাজন ও সুদখোর: চড়া সুদে ঋণ দেয়।
    • গ্রাম্য ধনী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী (বেপারি/ফড়িয়া): ফসল বিক্রির শর্তে দাদন দেয়।
    • আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব: আপদকালীন সময়ে সাহায্য হিসেবে ঋণ দেয়।
      এসব উৎস থেকে কৃষকরা সহজ শর্তহীনভাবে দ্রুত অর্থ পেলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের চড়া সুদ অনেক সময় কৃষকদের সর্বস্বান্ত করে।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিবিদ স্যার ফ্রেডারিক নিকলসনের উক্তি—"পৃথিবীর ইতিহাসের সাক্ষ্য এই যে, কৃষির জন্য ঋণ অত্যাবশ্যক"—বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও বাস্তবসম্মত।

    বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের অধিকাংশ কৃষকই দরিদ্র, প্রান্তিক এবং ভূমিহীন। তাদের নিজস্ব সঞ্চয় বা পুঁজি অত্যন্ত সীমিত। অথচ কৃষিকাজ চালাতে গেলে জমি তৈরি, বীজ, সার, কীটনাশক ক্রয়, সেচ প্রদান এবং শ্রমিক নিয়োগ বাবদ মৌসুমের শুরুতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। নিজস্ব তহবিল না থাকায় এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো কৃষি ঋণ।

    যদি কৃষকরা সময়মতো ঋণ না পায়, তবে তারা উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুষম সার-সেচ দিতে ব্যর্থ হবে, যার ফলে ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে বন্যা, খরা বা জলোচ্ছ্বাসে ফসলহানি হলে নতুন মৌসুমের চাষাবাদের জন্য ঋণের অপরিহার্যতা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। কৃষি ঋণের মাধ্যমে কৃষকরা কেবল চাষাবাদের ব্যয় মেটায় না, বরং খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে।

    অতএব, মূলধনের অভাব দূরীকরণ, আধুনিকায়নের বিস্তার এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় নিকলসনের বক্তব্যটি অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন