ইতিহাস ১ম পত্র • শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও জাতীয় আন্দোলন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. জোসেফ একজন উদারনৈতিক শাসক ছিলেন। তিনি সংবাদপত্রগুলোকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান করেন। সাত বছরের নিচের শিশুদের কারখানায় শ্রমিকের কাজ করা আইন করে বন্ধ করেন। দেশের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- ক)(1)
বক্সারের যুদ্ধ কোন সালে সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
ইলবার্ট বিল কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. জোসেফের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ব্যক্তির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উক্ত ব্যস্তির সংস্কারসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বক্সারের যুদ্ধ ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৮৩ সালে লর্ড রিপনের আইন পরিষদের সদস্য স্যার কোর্টনি ইলবার্ট কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি প্রস্তাবিত বিল হলো ‘ইলবার্ট বিল’। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় বা শ্বেতাঙ্গ অপরাধীদের বিচার করার অধিকার প্রদান করা, যার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থায় বর্ণবৈষম্য দূর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত এটি সংশোধন করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. জোসেফের সাথে পাঠ্যবইয়ের ভারতের উদারনৈতিক গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড রিপনের সাদৃশ্য রয়েছে।
লর্ড রিপন ছিলেন একজন খাঁটি উদারনৈতিক ও প্রজাহিতৈষী শাসক। তিনি ভারতীয়দের মৌলিক অধিকার এবং কল্যাণের জন্য বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত কুখ্যাত দেশীয় সংবাদপত্র দমন আইন (Vernacular Press Act) প্রত্যাহার করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। এছাড়া ১৮৮১ সালে তিনি প্রথম কারখানা আইন (Factory Act) প্রণয়ন করে সাত বছরের কম বয়সী শিশুদের কারখানায় কাজ করা নিষিদ্ধ করেন। শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টারের নেতৃত্বে 'হান্টার শিক্ষা কমিশন' গঠন করেন।
উদ্দীপকের মি. জোসেফও একজন উদার শাসক হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রদান করেন, শিশুশ্রম বন্ধে আইন করেন এবং শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। এই সংস্কার কার্যক্রমগুলো সরাসরি লর্ড রিপনের শাসনতান্ত্রিক পদক্ষেপের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ব্যক্তি লর্ড রিপন ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম জনহিতৈষী শাসক। ভারতীয় জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সংস্কারসমূহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার: লর্ড লিটনের কালাকানুন ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’ বাতিল করে তিনি দেশীয় সংবাদপত্রগুলোকে সরকারের সমালোচনা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
২. কারখানা আইন (১৮৮১): শ্রমিকদের সুরক্ষায় তিনি প্রথম ফ্যাক্টরি আইন প্রণয়ন করেন। এর মাধ্যমে ৭ বছরের কম বয়সী শিশুদের শ্রমে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয় এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাজের সময় দৈনিক ৯ ঘণ্টা নির্ধারিত হয়।
৩. হান্টার শিক্ষা কমিশন (১৮৮২): শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে তিনি হান্টার শিক্ষা কমিশন গঠন করেন, যা বেসরকারি উদ্যোগকে শিক্ষাক্ষেত্রে উৎসাহিত করে।
৪. স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন (১৮৮২): তিনিই প্রথম জেলা বোর্ড, লোকাল বোর্ড এবং পৌরসভা গঠন করে স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা সাধারণ মানুষের হাতে অর্পণ করেন। এ কারণে তাঁকে ‘স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক’ বলা হয়।
৫. ইলবার্ট বিল বিতর্ক: বিচার বিভাগে জাতিগত বৈষম্য দূর করতে তিনি ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচারের অধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
পরিশেষে বলা যায়, লর্ড রিপনের সংস্কারসমূহ ঔপনিবেশিক কাঠামোর মধ্যে ভারতীয়দের আত্মমর্যাদাবোধ বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও