ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন 'ম্যাগনাকাটা' দলিলে স্বাক্ষর করেন। রাজার অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য সামন্তরা রাজাকে বন্দি করে এবং উক্ত দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। ফলে জনগণের অধিকার বহুলাংশে রক্ষা পায়। রাজা স্থানীয় প্রধানদের সম্মতি ব্যতীত সম্পদ ও সম্পত্তি হস্তগত করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। জনগণের সাধারণ অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার পথ উন্মুক্ত হয়।
- ক)(1)
তাবুক অভিযান কত সালে প্রেরিত হয়েছিল?
- খ)(2)
হুনায়ুনের যুদ্ধের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
'ম্যাগনাকার্টা'-এর সাথে মহানবি (স) প্রদত্ত কোন সংবিধানের কতটুকু সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মহানবি (স)-এর সংবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্যের বৈপরীত্য পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তাবুক অভিযান ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে (৯ম হিজরি) প্রেরিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হুনায়ুনের (হুনায়নের) যুদ্ধ অষ্টম হিজরিতে (৬৩০ খ্রি.) সংঘটিত হয়েছিল। এ যুদ্ধে মক্কার বেদুইন গোত্র হাওয়াযিন ও ছাকিফ তাদের যাবতীয় ধন-সম্পদ, গবাদিপশু এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিল যাতে পরাজয়ের ভয়ে কেউ পালিয়ে না যায়। যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করলে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনিমত) মুসলমানদের হস্তগত হয়। এর মধ্যে ছিল চব্বিশ হাজার উট, চল্লিশ হাজারেরও বেশি ভেড়া বা বকরি এবং প্রচুর রৌপ্যমুদ্রা। এই বিপুল সম্পদ মুসলিম রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে এবং নব্য মুসলমানদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ও অনুগত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ম্যাগনাকার্টা'র সাথে মহানবি (স) প্রদত্ত পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ'-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
১২২৫ সালে স্বাক্ষরিত ম্যাগনাকার্টা যেমন জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও শাসকের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের স্বীকৃতি দিয়েছিল, তেমনি মহানবি (স) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মধ্যে শান্তি, শৃঙ্খলা ও অধিকার নিশ্চিত করতে মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন।
উভয় দলিলের সাদৃশ্যগুলো হলো:
১. অধিকারের সুরক্ষা: ম্যাগনাকার্টায় যেমন প্রজাদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষা করা হয়েছিল, তেমনি মদিনা সনদেও মদিনার মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য পৌত্তলিক গোত্রগুলোর ধর্মীয় স্বাধীনতা, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
২. আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: উভয় সংবিধানেই শাসকের একচ্ছত্র ক্ষমতা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের বিধান এবং সকলের জন্য সমঅধিকার নিশ্চিতের প্রয়াস চালানো হয়েছিল। সুতরাং, মানুষের অধিকার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মদিনা সনদের সাথে ম্যাগনাকার্টার সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মহানবি (স)-এর সংবিধান (মদিনা সনদ) প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য ম্যাগনাকার্টা থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত ও ভিন্নধর্মী ছিল। নিচে তা পর্যালোচনা করা হলো:
১. প্রণয়নের প্রক্রিয়াগত বৈপরীত্য:
উদ্দীপকে দেখা যায়, ম্যাগনাকার্টা প্রণীত হয়েছিল সামন্তপ্রভুদের বিদ্রোহ, বলপ্রয়োগ এবং রাজা জনকে বন্দি করে বাধ্য করার মাধ্যমে। অর্থাৎ এটি ছিল একটি সংকটকালীন সময়ে জবরদস্তিমূলক সমঝোতা। পক্ষান্তরে, মদিনা সনদ প্রণয়নে কোনো প্রকার জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগ ছিল না। হিজরতের পর মহানবি (স) দূরদর্শী ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মদিনার আওস, খাজরাজ এবং ইহুদিদের বিভিন্ন গোত্রের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা ও পারস্পরিক সর্বসম্মত সম্মতির ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় এ সনদ প্রণয়ন করেন।২. উদ্দেশ্যগত বৈপরীত্য:
ম্যাগনাকার্টা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজার অত্যাচার থেকে সামন্তশ্রেণি ও অভিজাতদের স্বার্থ ও স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং শাসকের ওপর নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা। বিপরীতে, মহানবি (স)-এর মদিনা সনদ প্রণয়নের উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্তর মানবিক ও সার্বজনীন। তিনি মদিনার বহুত্ববাদী সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের অবসান, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একটি ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ বা রাষ্ট্র গঠন এবং একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করতে এটি প্রণয়ন করেছিলেন।অতএব, ম্যাগনাকার্টা যেখানে ছিল বাধ্যবাধকতা ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের ফসল, মদিনা সনদ ছিল পারস্পরিক সম্প্রীতি, শান্তি এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অনন্য রূপরেখা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও