ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ সরকার ভারতে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার প্রচলন করেন। ফলে ভারতের মুসলমানদের বৃহদাংশ ইংরেজি না জানার কারণে চাকরি হারান। মুদ্রার ক্ষেত্রেও তারা প্রচলিত মুদ্রা বাতিল করে নতুন উপনিবেশিক মুদ্রা-ব্যবস্থা চালু করেন।
- ক)(1)
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কে ছিলেন?
- খ)(2)
খলিফা আবদুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
ব্রিটিশ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কারের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার সংস্কার কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে খলিফা আবদুল মালিকের ভাষা সংস্কারের উদ্দেশ্য ও ফলাফলের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের অত্যন্ত দক্ষ, বিশ্বস্ত ও কঠোর প্রশাসক এবং ইরাকের গভর্নর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খলিফা আবদুল মালিককে 'রাজেন্দ্র' বা 'সম্রাটদের জনক' (Father of Kings) বলা হয়, কারণ তাঁর চারজন সুযোগ্য পুত্র—আল-ওয়ালিদ, সুলায়মান, ইয়াজিদ (দ্বিতীয়) এবং হিশাম ধারাবাহিকভাবে উমাইয়া খিলাফতের সিংহাসনে আরোহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন। উমাইয়া রাজবংশের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা এই চার খলিফার পিতা হওয়ার গৌরব অর্জনের কারণেই ঐতিহাসিকরা তাঁকে 'রাজেন্দ্র' উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কারের সাথে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা আবদুল মালিকের পূর্বে মুসলিম সাম্রাজ্যে নিজস্ব কোনো মুদ্রা ব্যবস্থা ছিল না; বরং রোমান 'দিনার' ও পারস্যের 'দিরহাম' ব্যবহৃত হতো। খলিফা আবদুল মালিক ৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে সাম্রাজ্যজুড়ে প্রচলিত এই বৈদেশিক মুদ্রা বাতিল করে খাঁটি আরবি মুদ্রা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। তিনি সোনার দিনার, রুপার দিরহাম ও তামার ফলস চালু করেন এবং তাতে কোরআনের আয়াত ও আরবি লিপি উৎকীর্ণ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্রিটিশরা ভারতে পূর্ববর্তী প্রচলিত মুদ্রা ব্যবস্থা বাতিল করে তাদের নিজস্ব উপনিবেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচলন করেছিল। খলিফা আবদুল মালিকও একইভাবে রোমান ও পারস্যের মুদ্রা প্রত্যাহার করে নিজস্ব সার্বভৌম ইসলামি মুদ্রা প্রবর্তন করেছিলেন। সুতরাং খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের সাথেই ব্রিটিশ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কারের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ সরকারের ভাষা সংস্কারের ফলাফল এবং খলিফা আবদুল মালিকের ভাষা সংস্কারের ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।
উদ্দীপকে ব্রিটিশ সরকার ফারসির পরিবর্তে ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষা করার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের উপনিবেশিক শাসন ও স্বার্থ সুরক্ষিত করা। এর ফলে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী ইংরেজি না জানার কারণে সরকারি চাকরি থেকে বিতাড়িত হয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম দুরবস্থার শিকার হয়। অর্থাৎ ব্রিটিশদের ভাষা সংস্কার ছিল পরদেশীয় ও স্বার্থপর, যার ফলে স্থানীয় জনগণের একটি বিশাল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পক্ষান্তরে, খলিফা আবদুল মালিক কর্তৃক রাষ্ট্রীয় কার্যালয়গুলোতে গ্রিক, পাহলভি ও কিবতি ভাষার পরিবর্তে 'আরবি'কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালুর উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ঐক্য সুসংহত করা এবং মুসলিমদের স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠা করা। এর সুদূরপ্রসারী ফল ছিল ইতিবাচক। এর ফলে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী একই প্রশাসনিক ভাষার আওতায় আসে, আরবি ভাষার দ্রুত বিকাশ ঘটে এবং স্থানীয় আরবিভাষী মুসলিম ও অনারব নওমুসলিমদের প্রশাসনে কাজের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।
অতএব, ব্রিটিশদের প্রবর্তিত ভাষা সংস্কার ভারতীয় মুসলমানদের জন্য সংকট ও বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, অথচ খলিফা আবদুল মালিকের ভাষা সংস্কার মুসলিম জাতি ও সাম্রাজ্যের জন্য ঐক্য, অগ্রগতি এবং মর্যাদার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। এখানেই উভয়ের মাঝে প্রধান বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও