কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ভূমিকা পালন করছে। দেশে ছোট বড় অসংখ্য পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠেছে। কিন্তু মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধিসহ অন্যান্য বিষয় অপ্রতুল হওয়ায় এ শিল্পের বিকাশ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সরকারের সহযোগিতা পেলে শিল্পটি দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।
- ক)(1)
পোল্ট্রি কী?
- খ)(2)
কোয়েল পালন লাভজনক কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শিল্পটির অগ্রসর না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সরকারের সহযোগিতা পেলে শিল্পটি দ্রুত অগ্রসর হতে পারে- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পাখি মানুষের তত্ত্বাবধানে পোষ মানে, সহজে প্রজনন করে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা যেমন—ডিম ও মাংস উৎপাদন করে, তাদের পোল্ট্রি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোয়েল পালন অত্যন্ত লাভজনক, কারণ এদের আকার ছোট হওয়ায় পালনে অত্যন্ত কম স্থান, কম পুঁজী এবং কম খাদ্যের প্রয়োজন হয়।
কোয়েল মাত্র ৬-৭ সপ্তাহ বয়সেই ডিম দিতে শুরু করে এবং বছরে প্রায় ২৫০-৩০০টি ডিম দেয়। রোগবালাই অত্যন্ত কম হওয়ায় ঝুঁকি কম থাকে এবং অল্প দিনেই ডিম ও মাংস বিক্রয় করে দ্রুত লাভ পাওয়া যায়। ফলে অল্প পুঁজিতে কোয়েল পালন অধিক লাভজনক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পোল্ট্রি শিল্পের আশানুরূপ অগ্রসর না হওয়ার পেছনে বেশ কিছু বাস্তবমুখী সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা কাজ করছে।
প্রথমত, উদ্দীপকে সরাসরি উল্লেখ আছে যে দিন দিন একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। হ্যাচারিগুলোর ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় বাচ্চার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, পোল্ট্রি খাদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা এবং খাদ্যের উচ্চমূল্য অন্যতম বড় অন্তরায়। মোট ব্যয়ের প্রায় ৬০-৭০% খরচ হয় খাদ্যে, যা বাড়লে উৎপাদন লাভজনক থাকে না।
তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মতো বিষয় অপ্রতুল হওয়া, আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনার অভাব, বার্ড ফ্লুসহ নানা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ও ভ্যাকসিনের অভাব খামারিদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলে। উপরন্তু, সহজ শর্তে ঋণ ও সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে শিল্পটির সুষ্ঠু বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সরকারের সহযোগিতা পেলে শিল্পটি দ্রুত অগ্রসর হতে পারে"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও সময়োপযোগী। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. বাচ্চা ও খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ: সরকার পোল্ট্রি বাচ্চার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে হ্যাচারিগুলোর সিন্ডিকেট রোধ করতে পারে। এছাড়া পোল্ট্রি খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড় ও প্রণোদনা দিলে উৎপাদন খরচ কমবে।
২. সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ: নতুন উদ্যোক্তা ও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহজ শর্তে জামানতবিহীন ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করলে এ শিল্পে পুঁজির সংকট দূর হবে।
৩. বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সুবিধা: পোল্ট্রি খামারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের ন্যায় বাণিজ্যিক বিদ্যুতের পরিবর্তে কৃষিদরে বিদ্যুৎ বিলের সুবিধা প্রদান করলে উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ী হবে।
৪. রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সেবা: মাঠ পর্যায়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মাধ্যমে উন্নত মানের ভ্যাকসিন সরবরাহ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব।
৫. বাজারজাতকরণ ও কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা: সরকার হিমাগার নির্মাণ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
সুতরাং, সরকারের সমন্বিত নীতি সহায়তা ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ পেলে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প দ্রুত প্রসার লাভ করে আমিষের চাহিদা পূরণ ও বেকারত্ব দূরীকরণে এক বিরাট বিপ্লব ঘটাতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও