যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের আবশ্যিক পদ্ধতি প্রদানকারী প্রারম্ভিক বিজ্ঞান হচ্ছে যুক্তিবিদ্যা।দৃশ্যকল্প-২: সঠিক যুক্তি থেকে ভ্রান্ত যুক্তির পার্থক্যকারী নিয়মসমূহের আলোচনা হচ্ছে যুক্তিবিদ্যা।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যা কীসের আকার নিয়ে আলোচনা করে।
- খ)(2)
Logic শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১-এ কোন যুক্তিবিদের ধারণা এসেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১-এর চেয়ে ২-এর বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বেশি স্পষ্টতর হয়েছে- মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যা মূলত 'চিন্তার আকার' (Forms of thought) নিয়ে আলোচনা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Logic' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান। ইংরেজি 'Logic' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ 'Logike' (লজিকে) থেকে, যা আবার গ্রিক বিশেষ্য শব্দ 'Logos' (লগোস)-এর বিশেষণ রূপ। গ্রিক 'Logos' শব্দের অর্থ চিন্তা, শব্দ বা ভাষা। যেহেতু আমাদের মানসিক চিন্তা ভাষার মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়, তাই ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে যুক্তিবিদ্যাকে ভাষায় প্রকাশিত চিন্তার বিজ্ঞান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এ যুক্তিবিদ্যার জনক এরিস্টটলের (Aristotle) ধারণা ফুটে উঠেছে।
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল যুক্তিবিদ্যাকে সকল বিজ্ঞানের পূর্বশর্ত বা প্রারম্ভিক বিজ্ঞান হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি যুক্তিবিদ্যাকে অন্যান্য বিজ্ঞানের মতো একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে না দেখে সকল বিজ্ঞানের একটি অপরিহার্য সহায়ক বা পদ্ধতিমূলক বিদ্যা মনে করতেন। তাঁর মতে, যুক্তিবিদ্যা সত্য বা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের একটি সহায়ক মাধ্যম বা হাতিয়ার, যা তিনি তাঁর সংকলন 'অর্গানন' (Organon)-এ ব্যাখ্যা করেছেন।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ বলা হয়েছে—"প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের আবশ্যিক পদ্ধতি প্রদানকারী প্রারম্ভিক বিজ্ঞান হচ্ছে যুক্তিবিদ্যা।" এই বক্তব্যটি এরিস্টটলের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ তিনি জ্ঞানার্জনের ভিত্তি হিসেবে যুক্তিবিদ্যাকে অন্য বিজ্ঞানের প্রবেশদ্বার ও মূল হাতিয়ার বিবেচনা করেছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এর চেয়ে দৃশ্যকল্প-২-এর বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ বেশি স্পষ্টতর হয়েছে—উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
দৃশ্যকল্প-১-এ যুক্তিবিদ্যার জনক এরিস্টটলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে যুক্তিবিদ্যাকে সত্য বা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের সহায়ক বা প্রারম্ভিক বিজ্ঞান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এরিস্টটলের এই ধারণা মূলত জ্ঞানতাত্ত্বিক এবং এটি যুক্তিবিদ্যার স্বরূপকে পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে।
অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-২-এ আধুনিক যুক্তিবিদ আই. এম. কপির (I. M. Copi) সুবিখ্যাত সংজ্ঞা প্রতিফলিত হয়েছে। কপি যুক্তিবিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেন—"যুক্তিবিদ্যা হলো বৈধ বা সঠিক যুক্তি থেকে অবৈধ বা ভ্রান্ত যুক্তিকে পৃথক করার পদ্ধতি ও নিয়মাবলির বিজ্ঞান।" যুক্তিবিদ্যার মূল কাজ কোনো তথ্য সংগ্রহ করা নয়, বরং প্রদত্ত যুক্তির বৈধতা বা অবৈধতা যাচাই করা। দৃশ্যকল্প-২-এ যুক্তিবিদ্যার এই মূল প্রায়োগিক লক্ষ্য ও স্বরূপ সরাসরি ব্যক্ত হয়েছে।
এরিস্টটলের সংজ্ঞায় যুক্তিবিদ্যাকে অন্যান্য বিজ্ঞানের সহায়ক হিসেবে দেখা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিধি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কিন্তু কপির সংজ্ঞায় (দৃশ্যকল্প-২) যুক্তিবিদ্যার মূল বিষয়বস্তু—অর্থাৎ অনুমান বা যুক্তির নিয়মাবলি এবং ভালো ও মন্দ যুক্তির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্টভাবে নির্দেশিত হয়েছে।
অতএব, কার্যকারিতা ও আধুনিক প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় দৃশ্যকল্প-১-এর চেয়ে দৃশ্যকল্প-২-এর বক্তব্যেই যুক্তিবিদ্যার প্রকৃত স্বরূপ ও লক্ষ্য অধিক স্পষ্টতর হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও