ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আফ্রিকার একটি উপজাতি সূর্যদেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধনসম্পদ সেখানে গচ্ছিত রাখে। তাদের বিশ্বাস শত্রু হতে শক্তিশালীই হোক সূর্যদেবতা তাদের রক্ষা করবে। মন্দিরে ধনসম্পদ গচ্ছিত রাখার বিষয়ে একটি ইউরোপীয় অভিযাত্রী দল অবগত হয়। তাদের স্বপ্ন ছিল হাওয়াই দ্বীপে তারা একটি অবকাশ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এজন্য মন্দির লুন্ঠন করার মনস্থির করে। অভিযাত্রীরা অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে মন্দির আক্রমণ করে। উপজাতিরা প্রাণপণ লড়াই করেও পরাজিত হয়। অভিযাত্রীরা মন্দির হতে প্রচুর ধনসম্পদ হস্তগত করে।
- ক)(1)
শাহনামার রচয়িতা কে?
- খ)(2)
আল-বেরুনির পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'সূর্য দেবতার' মন্দির আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের কোন অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের অর্থনৈতিক দিকটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শাহনামার রচয়িতা হলেন মহাকবি ফেরদৌসী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবু রায়হান আল-বেরুনি ছিলেন মধ্যযুগের একজন জগদ্বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, ভূগোলবিদ, ঐতিহাসিক ও বহুভাষাবিদ।
তিনি সুলতান মাহমুদের দরবারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন এবং সুলতানের ভারত অভিযানের সময় ভারতে আগমন করেন। তিনি প্রায় তেরো বছর ভারতে অবস্থান করে সংস্কৃত ভাষা শেখেন এবং ভারতীয় সংস্কৃতি, ধর্ম ও দর্শন গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাবুল হিন্দ' (বা 'তারিখ আল-হিন্দ') মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির এক প্রামাণ্য ও অমূল্য দলিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'সূর্য দেবতার' মন্দির আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে পরিচালিত ঐতিহাসিক গুজরাটের 'সোমনাথ মন্দির' অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।
সুলতান মাহমুদ ভারতে মোট সতেরোটি অভিযান পরিচালনা করেন, যার মধ্যে সোমনাথ মন্দির অভিযান ছিল সর্বাধিক বিখ্যাত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী। ভারতের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সোমনাথের শিবলিঙ্গকে অসীম ক্ষমতার অধিকারী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকর্তা মনে করতেন। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, অন্যান্য মন্দির আক্রান্ত হলেও সোমনাথ দেবতা স্বয়ং শত্রুদের ধ্বংস করে ভক্তদের রক্ষা করবেন। এই অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সেখানে বিপুল পরিমাণ ধনরত্ন জমা রাখা হয়েছিল। সুলতান মাহমুদ এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দেওয়ার জন্য এবং সম্পদ আহরণের উদ্দেশ্যে সোমনাথ আক্রমণ করেন। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর তিনি মন্দিরটি জয় করেন এবং বিপুল ধনসম্পদ অর্জন করেন।
উদ্দীপকের উপজাতিরা সূর্যদেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে সব ধনসম্পদ সেখানে রাখে এবং বিশ্বাস করে দেবতা তাদের রক্ষা করবেন। ইউরোপীয়রা সেই মন্দির লুণ্ঠন করে। এই ঘটনাটি সুলতান মাহমুদের সোমনাথ মন্দির অভিযানের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের পেছনে যে একটি অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য ও দিক ছিল, তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
ঐতিহাসিকদের মতে, সুলতান মাহমুদ কোনো সাম্রাজ্য বিস্তার বা ভারতে স্থায়ী মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ভারত আক্রমণ করেননি; বরং তাঁর অভিযানের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি ছিল অর্থনৈতিক প্রয়োজন। গজনী সাম্রাজ্যকে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং মধ্য এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যয় মেটানোর জন্য তাঁর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল। ভারত তৎকালীন সময়ে ধনসম্পদে সমৃদ্ধ ছিল এবং ভারতের মন্দিরগুলোতে টন টন স্বর্ণ, রৌপ্য ও মণি-মুক্তা গচ্ছিত থাকত। সুলতান মাহমুদ নগরকোট, কনৌজ, মথুরা এবং বিশেষ করে সোমনাথ মন্দির থেকে বিপুল ধনসম্পদ সংগ্রহ করে গজনীতে নিয়ে যান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের লক্ষ্য ছিল হাওয়াই দ্বীপে অবকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা এবং সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের অর্থ জোগাড় করতেই তারা মন্দিরে রক্ষিত ধনসম্পদ হস্তগত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
একইভাবে সুলতান মাহমুদ তাঁর রাজধানী গজনীকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুন্দর নগরী, মসজিদ, মাদ্রাসা, লাইব্রেরি ও প্রাসাদ দিয়ে সুসজ্জিত করার অর্থ সংস্থানের লক্ষ্যেই ভারতের মন্দিরগুলোতে অভিযান চালিয়েছিলেন। অতএব, সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের চরিত্র বিশ্লেষণে এর অর্থনৈতিক দিকটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও