কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

মিঃ ফয়েজ আলী একজন বিশিষ্ট ফুল ব্যবসায়ী। তিনি বিভিন্ন মৌসুমি ফুল এবং বারমাসি ফুলের চাষ করেন। তার চাষকৃত ফুলের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো রজনীগন্ধা, গাঁদা, ডালিয়া, গোলাপ ইত্যাদি। তিনি আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে ফুল চাষ এবং বংশবিস্তারের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। তিনি তার বাগানে একটি গোলাপ গাছে তিন রংয়ের ফুল ফোটান। ফুল চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করেন। তিনি বিদেশে ফুল রপ্তানি করছেন।

  1. ক)

    জিনিং কী?

    (1)
  2. খ)

    ডালকে গরিবের মাংস বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মিঃ ফয়েজ আলী কীভাবে তার অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগান? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "ফুল চাষ উপার্জনের একটি উত্তম পথ” উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তুলাবীজ থেকে আঁশ বা তুলা আলাদা করার যান্ত্রিক বা হস্তচালিত পদ্ধতিকে জিনিং (Ginning) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডাল জাতীয় শস্যে মাংসের মতোই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ থাকে। প্রাণিজ আমিষ যেমন মাছ বা মাংসের দাম বেশি হওয়ায় নিম্নআয়ের বা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে তা নিয়মিত ক্রয় করা সম্ভব হয় না। তুলনামূলকভাবে কম খরচে ডাল থেকে প্রয়োজনীয় উদ্ভিজ্জ আমিষের চাহিদা পূরণ করা যায় বলে ডালকে 'গরিবের মাংস' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিঃ ফয়েজ আলী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে ফুল চাষ এবং বংশবিস্তারের ওপর প্রশিক্ষণ নেন এবং সেই অর্জিত জ্ঞানকে তিনি ফুল চাষ ও উন্নত জাতের ফুল উৎপাদনে কাজে লাগান।

    তিনি ফুল চাষের আধুনিক কৌশল, রোপণ দূরত্ব, সেচ ও সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমন সংক্রান্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। বিশেষভাবে, তিনি উদ্ভিদের কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন পদ্ধতি অর্থাৎ কলম বা গ্রাফটিং (যেমন- বাডিং বা জোড় কলম)-এর ওপর অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে একই গোলাপ গাছে তিন রঙের ফুল ফোটাতে সক্ষম হন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মৌসুমি ও বারমাসি ফুলের উন্নত পরিচর্যা করে উচ্চমানের ফুল উৎপাদন করেন এবং তা আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় বিদেশেও রপ্তানি করতে সক্ষম হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ফুল চাষ উপার্জনের একটি উত্তম পথ"—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

    বর্তমান যুগে দেশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার অপরিহার্য। ফলে ফুল চাষ একটি লাভজনক বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিঃ ফয়েজ আলী সঠিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রজনীগন্ধা, গাঁদা, ডালিয়া এবং গোলাপের মতো বাণিজ্যিক ফুলের সফল চাষ করেছেন।

    ফুল চাষে কম জমিতে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন সম্ভব। মিঃ ফয়েজ আলী শুধু স্থানীয় বাজারেই ফুল বিক্রি করেননি, বরং গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদিত ফুল বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এতে তার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    অতএব, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিপণন ব্যবস্থার সমন্বয়ে ফুল চাষ হতে পারে আত্মকর্মসংস্থান ও লাভজনক উপার্জনের এক উজ্জ্বল ও উত্তম পথ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন