কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. রহমত তার জমিতে প্রচুর পরিমাণে ইউরিয়া সার, সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রি ধান ২৮ জাতের ধান উৎপাদন করেন। এতে তার সংলগ্ন জমির তুলনায় ফলন বেশি হয়। কিন্তু পাশের গ্রামের সুমন তার জমিতে এ্যাজোলা চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে ব্রি ধান। ২৮ জাতের ধানের চাষ করেন। তার জমির দশ মিটারের মধ্যে অন্য কোনো জাতের ধান চাষ হয়নি। তিনি রোগিংসহ সকল পরিচর্যা করেন। এতে তার উৎপাদন খরচ অনেকটা কমে গেল।

  1. ক)

    রাইজোবিয়াম কী?

    (1)
  2. খ)

    বীজ শোধন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সুমনের জমিতে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোন কৃষকের উৎপাদন কৌশল বেশি। গ্রহণযোগ্য? যুক্তি দিয়ে বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাইজোবিয়াম হলো মাটিতে বসবাসকারী এক প্রকার মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া, যা শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে নডিউল তৈরি করে বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বীজের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ছড়ায়, যা অঙ্কুরোদ্গম নষ্ট করে এবং চারা অবস্থায় মড়ক সৃষ্টি করে। বীজ শোধনের মাধ্যমে বীজের গায়ে বা ভেতরে সুপ্ত অবস্থায় থাকা রোগজীবাণু ও পোকা-মাকড়ের ডিম ধ্বংস করা হয়। শোধিত বীজ থেকে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত চারা গজায় এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। মূলত বীজবাহিত রোগের আক্রমণ প্রতিরোধ ও বীজের জীবনক্ষমতা রক্ষা করার জন্যই বীজ শোধন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুমনের জমিতে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো জমিতে সবুজ সার হিসেবে 'এ্যাজোলা' ব্যবহার করা।

    এ্যাজোলা একটি জলজ ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ, যার পাতায় এনাবেনা নামের নীলাভ-সবুজ শৈবাল মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। এটি প্রচুর পরিমাণে বায়বীয় নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সক্ষম। সুমন তাঁর ধানের জমিতে এ্যাজোলা চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ায় মাটিতে প্রচুর জৈব সার ও উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের জোগান নিশ্চিত হয়েছে।

    ফলস্বরূপ, জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়াসহ অন্যান্য রাসায়নিক সার কেনার খরচ ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া এ্যাজোলা মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং আর্দ্রতা ধরে রেখে সেচের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয়। রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাওয়ায় সুমনের সার্বিক উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মি. রহমতের তুলনায় সুমনের উৎপাদন কৌশল অধিক গ্রহণযোগ্য এবং বিজ্ঞানসম্মত।

    বীজ উৎপাদনের জন্য শুধু অধিক ফলন পেলেই চলে না, বরং বীজের জাতের বিশুদ্ধতা ও মান বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমন বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূল নিয়ামকগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করেছেন:
    ১. পৃথকীকরণ দূরত্ব: সুমন তাঁর জমির দশ মিটারের মধ্যে অন্য কোনো জাতের ধান চাষ না করায় পরপরাগায়নের ঝুঁকি এড়ানো গেছে এবং জাতের জিনগত বিশুদ্ধতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
    ২. রোগিং (রুগিং): তিনি রোগিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জাতের গাছ বাদে অন্য জাতের বা অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ ও রোগাক্রান্ত গাছ শুরুতেই তুলে ফেলেছেন। ফলে শতভাগ বিশুদ্ধ বীজ পাওয়া সম্ভব হবে।
    ৩. পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা: তিনি এ্যাজোলা ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা রক্ষা করে কম খরচে প্রাকৃতিক উপায়ে মানসম্মত ফসল উৎপাদন করেছেন।

    অপরদিকে মি. রহমত প্রচুর ইউরিয়া ও কীটনাশক দিয়ে সাধারণ ফসলের মতো বেশি ফলন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বীজ উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য শর্তাবলি (যেমন: পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখা, রোগিং করা ইত্যাদি) তাঁর ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল।

    অতএব, বীজের বিশুদ্ধতা রক্ষা ও কার্যকর বীজ প্রযুক্তি অনুসরণের দিক থেকে সুমনের কৌশলই সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন