কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

গনি মিয়া গতানুগতিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করেন। কিন্তু এ বছর রসুলপুর গ্রামে তিনি দেখতে পান যে কৃষকেরা দশদিন বয়সের চারা বর্গাকারে রোপণ করেছেন। তারা প্রতি গোছায় একটি করে চারা রোপণ করেছেন। তিনি জমিতে পানি দেখতে পেলেন না কিন্তু মাটিতে খাড়াভাবে পুঁতে দেওয়া কয়েকটি ছিদ্রযুক্ত পাইপ দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিকট থেকে এ বিষয়ে। বিস্তারিত জানতে পারেন।

  1. ক)

    মালচিং কী?

    (1)
  2. খ)

    মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে কেঁচোর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সেচ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিটি লাভজনকভাবে ফসল উৎপাদনে কীভাবে সাহায্য করবে? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    গনি মিয়ার দেখা ধান চাষ পদ্ধতিটি গ্রহণের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, আগাছা দমন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন খড়, পাতা, প্লাস্টিক শিট) দিয়ে মাটির উপরিভাগ ঢেকে দেওয়াকে মালচিং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে কেঁচো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেঁচো মাটির গভীর থেকে বিভিন্ন উপাদান খেয়ে মল বা বর্জ্য হিসেবে ত্যাগ করে, যা ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার নামে পরিচিত। এই মলে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও জৈব পদার্থ থাকে যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়। এছাড়াও কেঁচো চলাচলের সময় মাটিতে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি করে, যা মাটির বায়ু চলাচল এবং পানি ধারণ ক্ষমতা উন্নত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মাটিতে ছিদ্রযুক্ত পাইপ পুঁতে রাখা পদ্ধতিটি হলো এডব্লিউডি (AWD - Alternate Wetting and Drying) বা পর্যায়ক্রমিক ভিজানো ও শুকানো সেচ পদ্ধতি। এটি লাভজনকভাবে ফসল উৎপাদনে নিম্নোক্ত উপায়ে সাহায্য করে:

    ১. সেচের পানির অপচয় রোধ: জমিতে সার্বক্ষণিক পানি জমিয়ে না রেখে পাইপের পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করে কেবল মাটির নিচে পানির স্তর নির্দিষ্ট সীমায় নেমে গেলেই সেচ দেওয়া হয়। এতে সেচের পানির ২৫-৩০% সাশ্রয় হয়।
    ২. উৎপাদন খরচ হ্রাস: কম সেচ লাগার ফলে পাম্প চালানোর জ্বালানি (ডিজেল বা বিদ্যুৎ) খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুনাফা বৃদ্ধি করে।
    ৩. শিকড়ের বিস্তার ও পুষ্টি গ্রহণ: মাটি শুকানো ও ভিজানোর ফলে মাটির ভেতরে শিকড়ে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়, শিকড়ের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং গাছ পুষ্টি উপাদান সহজে গ্রহণ করতে পারে। ফলে ফলন ব্যাহত না হয়ে বৃদ্ধি পায়।

    সুতরাং, এ পদ্ধতিটি কৃষি ব্যয় কমিয়ে লাভজনক ফসল উৎপাদনে কার্যকর অবদান রাখে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গনি মিয়ার দেখা পদ্ধতিটি হলো কম বয়সে একক চারা রোপণ সম্বলিত আধুনিক ধান চাষ পদ্ধতি বা এসআরআই (SRI - System of Rice Intensification) এবং এডব্লিউডি সেচ প্রযুক্তির সমন্বয়। এই পদ্ধতি গ্রহণের যৌক্তিকতা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. বীজের সাশ্রয়: প্রচলিত পদ্ধতিতে এক গোছায় ৪-৫টি চারা রোপণ করা হয়, কিন্তু এখানে প্রতি গোছায় মাত্র ১টি চারা রোপণ করায় বীজের ব্যবহার শতকরা ৭০-৮০ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পায়।
    ২. রোপণ ও পরিচর্যার সুবিধা: ৮-১০ দিনের কচি চারা বর্গাকারে (২৫ সেমি × ২৫ সেমি) রোপণ করার ফলে গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায় এবং প্রতিটি চারা থেকে প্রচুর কার্যকর কুশি গজায়।
    ৩. পানি ও শক্তির সাশ্রয়: এডব্লিউডি পাইপ ব্যবহারের কারণে জমিতে সার্বক্ষণিক পানি আটকে রাখতে হয় না, ফলে পানির পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় কমে যায়।
    ৪. পরিবেশবান্ধব: জমিতে সবসময় পানি না থাকার কারণে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাসের নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক।
    ৫. অধিক ফলন ও অর্থনৈতিক লাভ: এই পদ্ধতিতে গাছের রোগবালাই কম হয়, গাছ শক্ত হয় এবং ধানের শিষ লম্বা হয়ে ফলন সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে ২০-৩০% বেশি হয়।

    অতএব, কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের জন্য গনি মিয়ার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির বদলে এই আধুনিক ধান চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন