‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ • বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

পিটার তার বন্ধু দীনেশকে জানায় তাদের সরকার দীনেশদের সরকারের মতো আইন সভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।

  1. ক)

    কক্ষের ভিত্তিতে আইনসভা কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    আইনের অনুশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    পিটারের রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান? সরকারের বৈশিষ্ট্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দীনেশের সরকার কোন ধরনের সরকার? গণতান্ত্রিক উন্নয়ন এ সরকার, জরুরি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কক্ষের ভিত্তিতে আইনসভা দুই প্রকার— এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইনের অনুশাসন (Rule of Law) বলতে বোঝায় আইনের চোখে সকলেই সমান এবং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকেই শাস্তি প্রদান বা তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। অধ্যাপক এ. ভি. ডাইসির মতে, এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং সমভাবে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পিটারের রাষ্ট্রে 'রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার' (Presidential Government) ব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ এ ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে না।

    রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ: শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর থেকে পৃথক ও স্বাধীনভাবে কাজ করে।
    ২. রাষ্ট্রপতির প্রকৃত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি কেবল নামমাত্র প্রধান নন, বরং তিনিই রাষ্ট্রের প্রকৃত প্রধান এবং সরকার প্রধান হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হন।
    ৩. আইনসভার কাছে জবাবদিহিতার অভাব: রাষ্ট্রপতি বা তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের কাজের জন্য আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকেন না।
    ৪. নির্দিষ্ট মেয়াদ: আইনসভা সহজে অনাস্থা প্রস্তাব এনে রাষ্ট্রপতিকে অপসারিত করতে পারে না; তিনি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দীনেশের সরকার হলো 'সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার' (Parliamentary Government)। কারণ এ ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভা বা শাসন বিভাগ তাদের যাবতীয় কাজের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।

    গণতান্ত্রিক উন্নয়নে সংসদীয় সরকারের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: এ শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে সংসদের ভেতরে প্রশ্নোত্তর পর্ব, মূলতবি প্রস্তাব এবং অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে জবাবদিহি করতে হয়, যা স্বৈরাচারী মনোভাব রোধ করে।
    ২. বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা: সংসদে বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে সহায়তা করে, যা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
    ৩. জনমতের প্রতিফলন: আইনসভার সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদের সিদ্ধান্তসমূহে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে।
    ৪. নমনীয়তা ও গতিশীলতা: জাতীয় সংকট বা জরুরি প্রয়োজনে আইনসভার আস্থা হারালে সহজেই সরকার পরিবর্তন বা পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়।

    অতএব, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন