ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
কীর্তিপাশার জমিদার মহিম রায় চৌধুরী খুবই রুচিবান ও সৌখিন মানুষ ছিলেন। তিনি জমিদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি জাকজমকপূর্ণ দরবার হল নির্মাণ করেছিলেন। পাশাপাশি তার নির্মিত। কাচারি বাড়ি নায়েব মহল আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। একই সময়ে নির্মিত নাট মন্দিরটি এখনো ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। তার স্ত্রী। কমলাদেবী অনিন্দ্য সুন্দরী ও বিদুষী রমণী ছিলেন। জমিদার মহিয়। রায় চৌধুরীর স্ত্রীর প্রতি ছিল অপরিসীম ভালোবাসা। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় পড়ে কমলাদেবী অকালে মৃত্যুবরণ করলে জমিদার খুবই মুষড়ে পড়েছিলেন। তিনি স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষার্থে বহু অর্থ ব্যয়ে যে সৌধটি নির্মাণ করেন, আজও তা বিদ্যমান রয়েছে।
- ক)(1)
সম্রাট শাহজাহানের পিতার নাম কী?
- খ)(2)
সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে সংঘটিত উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রধান কারণটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কমলাদেবীর সাথে কোন মুঘল সম্রাটের মহীয়সীর সামঞ্জস্য রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর কর্মকান্ডের আলোকে উক্ত সম্রাটের স্থাপত্যকীর্তির মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্রাট শাহজাহানের পিতার নাম সম্রাট জাহাঙ্গীর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে সংঘটিত উত্তরাধিকার যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল মুঘল রাজবংশে জ্যেষ্ঠাধিকারের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তরাধিকার আইন না থাকা এবং চার পুত্রের তীব্র ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
১৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র দারা শিকোহকে সিংহাসনের উত্তরসূরি মনোনীত করা হয়। কিন্তু শাহজাহানের অপর তিন পুত্র—সুজা, আওরঙ্গজেব এবং মুরাদ—তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সিংহাসন দখলের সশস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। মুঘলদের প্রথা ছিল 'তখত ইয়া তাখতা' (সিংহাসন অথবা শবাধার), যার ফলে ক্ষমতা দখলের জন্য ভাইদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর স্ত্রী কমলাদেবীর সাথে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয়তমা মহীয়সী পত্নী মমতাজ মহল (আরজুমান্দ বানু বেগম)-এর গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে।
উদ্দীপকের কমলাদেবী ছিলেন রূপবতী, বিদুষী এবং স্বামীর অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর অকালমৃত্যুতে জমিদার অত্যন্ত শোকাহত হন এবং স্ত্রীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে একটি অনন্য সৌধ নির্মাণ করেন।
একইভাবে মুঘল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী মমতাজ মহল ছিলেন অপূর্ব রূপবতী, বুদ্ধিমতী ও গুণবতী। সম্রাট শাহজাহানের সাথে তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল গভীর ভালোবাসাপূর্ণ। ১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে চতুর্দশ সন্তান জন্মদানের সময় মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মমতাজ মহল অকালে মৃত্যুবরণ করেন। পত্নীবিয়োগে শাহজাহান শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন এবং তাঁর প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিকে চিরভাস্বর করে রাখতে আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে বিশ্বখ্যাত শ্বেতপাথরের সমাধি সৌধ 'তাজমহল' নির্মাণ করেন। সুতরাং, স্বামীর অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রেক্ষাপটের দিক থেকে কমলাদেবীর সাথে সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জমিদার মহিম রায় চৌধুরীর দরবার হল, কাচারি বাড়ি এবং স্ত্রীর স্মৃতিরক্ষার্থে সৌধ নির্মাণের কর্মকান্ডের মধ্যে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অনন্য স্থাপত্যকীর্তির প্রতিফলন ঘটেছে। শাহজাহানকে মুঘল যুগের 'স্থাপত্যকলার যুবরাজ' (Prince of Builders) বলা হয়।
উদ্দীপকের জমিদারের মতো সম্রাট শাহজাহানও ছিলেন অত্যন্ত রুচিবান ও শিল্পানুরাগী। তিনি তাঁর রাজত্বকালে শাসনকাজ পরিচালনার জন্য দিল্লির লালকেল্লা এবং এর ভেতর অপূর্ব 'দেওয়ান-ই-আম' ও 'দেওয়ান-ই-খাস' (দরবার হল) নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি দিল্লির জামে মসজিদ, লাহোরের শালিমার উদ্যান, আগ্রা দুর্গের মোতি মসজিদ প্রভৃতি চোখধাঁধানো কীর্তি গড়ে তোলেন।
জমিদার মহিম রায় চৌধুরী যেমন স্ত্রীর স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিলেন, তেমনই শাহজাহানের স্থাপত্যকর্মের শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন হলো আগ্রার বিশ্ববিখ্যাত তাজমহল। মমতাজ মহলের সমাধিতে শ্বেতপাথরের এই স্মৃতিসৌধটির নিখুঁত কারুকার্য, জ্যামিতিক ভারসাম্য এবং পারস্য ও ভারতীয় রীতির অপূর্ব সমন্বয় বিশ্বজুড়ে অনন্য। তাঁর সময়ে মুঘল স্থাপত্যশিল্প সৌন্দর্যের চরম উৎকর্ষে পৌঁছায়।
অতএব, উদ্দীপকের জমিদারের নান্দনিক ও নির্মাণধর্মী কর্মকাণ্ডের আলোকে বলা যায়, সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্যকীর্তি ছিল মুঘল সংস্কৃতির এক স্বর্ণযুগ এবং তিনি স্থাপত্য ইতিহাসে এক অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও