পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিম মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল হতে নিপীড়িত ও অত্যাচারিত হয়ে কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত সকল নাগরিকের সমানাধিকার ও মানবিক মর্যাদা লজ্জিত হয়েছে।
- ক)(1)
তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাস হয়?
- খ)(2)
অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন অধিকারসমূহের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত অধিকারসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন পাস হয় ২০০৯ সালে (২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল কার্যকর)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অধিকারের মধ্যেই কর্তব্য নিহিত'- কথাটির অর্থ হলো একটির অস্তিত্ব ছাড়া অন্যটি অর্থহীন এবং অধিকার ভোগের মাধ্যমেই কর্তব্যের সৃষ্টি হয়।
অধিকার ও কর্তব্য মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একজন নাগরিক যখন কোনো অধিকার ভোগ করে, তখন অন্যের অনুরূপ অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা তার আবশ্যিক কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। যেমন- আমার নিরাপদে চলার অধিকার তখনই নিশ্চিত হবে, যখন আমি অন্যের চলাচলের অধিকার রক্ষা করার কর্তব্য পালন করব। তাই অধিকার ভোগ করতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মানবাধিকার, বিশেষ করে মৌলিক নাগরিক ও মানবিক অধিকারসমূহের (যেমন- জীবনের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার ও বৈষম্যহীনতার অধিকার) কথা বলা হয়েছে।
মানবাধিকার হলো প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার, যা জাতিসংঘ কর্তৃক ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর 'সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র'-এর মাধ্যমে স্বীকৃত। এসব অধিকারের মধ্যে রয়েছে বাঁচার অধিকার, শারীরিক নির্যাতন থেকে মুক্তির অধিকার, স্বাধীন চলাফেরার অধিকার এবং নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে বসবাসের অধিকার।
উদ্দীপকের রহিম রাখাইন অঞ্চলের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও নির্যাতনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে সে তার জীবনের নিরাপত্তা, নিজস্ব আবাসস্থল ও মৌলিক মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উদ্দীপকে জাতিসংঘ ঘোষিত নাগরিকের সমানাধিকার ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার যে উল্লেখ রয়েছে, তা মূলত সর্বজনীন মানবাধিকারের লঙ্ঘনকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার ও মৌলিক নাগরিক অধিকারসমূহের গুরুত্ব অপরিসীম।
সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ সাধন, সমতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। কোনো রাষ্ট্রে যখন নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে, তখনই কেবল সুশাসনের প্রকৃত রূপ দৃশ্যমান হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ব্যতীত জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাখাইনে রহিমের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ায় সে নিরাপত্তাহীন হয়ে ভিনদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। মানবাধিকারের অস্বীকৃতি সমাজে সংঘাত, নৈরাজ্য ও বিচারহীনতার জন্ম দেয়, যা সুশাসনের পরিপন্থী। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের বাঁচার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, সাম্য এবং সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হয়। নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকলে প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা বাড়ে, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুদৃঢ় হয় এবং সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, একটি শোষণমুক্ত, মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ গঠনের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করতে মৌলিক মানবাধিকারের সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও