পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব নাবিলা হক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি তার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বললেন, "তোমরা বাবা-মা ও শিক্ষকদের উপদেশ মেনে চলবে, ন্যায়-নীতিবোধ জাগ্রত রাখবে। ভবিষ্যতে আলোকিত মানুষ হয়ে অসহায়, দুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে। জ্ঞানের চর্চা করবে। তাহলে জীবনে সফল হতে পারবে।
- ক)(1)
স্বাধীনতা কী?
- খ)(2)
নাগরিকের কল্যাণের জন্য আইন মেনে চলা প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব নাবিলা হকের বক্তব্যে কোন ধরনের মূল্যবোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী কোনো কাজ করার অবাধ অধিকারকে বোঝায়, তবে পৌরনীতি ও সুশাসনে স্বাধীনতা হলো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও অধিকার ভোগ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাগরিকের সার্বিক কল্যাণ, জান-মালের নিরাপত্তা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইন মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন।
আইন সমাজের সকল ব্যক্তির আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে। আইন মেনে না চললে সমাজে 'জোর যার মুল্লুক তার' অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং দুর্বলের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়। আইন নাগরিকদের সাম্য ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা বজায় রাখে, যার ফলে নাগরিকরা নিরাপদে জীবনযাপন ও ব্যক্তিস্বার্থের বিকাশ ঘটাতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব নাবিলা হকের বক্তব্যে 'নৈতিক মূল্যবোধ' এবং 'সামাজিক মূল্যবোধ'-এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের এমন মানদণ্ড, যা দ্বারা ব্যক্তির কার্যকলাপের ভালো-মন্দ বা উচিত-অনুচিত বিচার করা হয়। এর মধ্যে বড়দের উপদেশ মেনে চলা, ন্যায়-নীতি চর্চা করা হলো নৈতিক মূল্যবোধ; আর অসহায়, দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলে আত্মনিয়োগ করা হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
উদ্দীপকে শিক্ষক নাবিলা হক শিক্ষার্থীদের বাবা-মা ও শিক্ষকদের উপদেশ মেনে চলা এবং ন্যায়-নীতিবোধ জাগ্রত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যা সরাসরি নৈতিক মূল্যবোধের পরিচায়ক। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে আলোকিত মানুষ হয়ে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সেবা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা পরার্থপরতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তথা সামাজিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও পরিপূরক।
সুশাসন হলো একটি ইতিবাচক ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা, যেখানে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, মূল্যবোধ ব্যক্তির মধ্যে দায়িত্বশীলতা, সততা ও ন্যায়বোধ সৃষ্টি করে। মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক ও শাসক ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
উদ্দীপকে জনাব নাবিলা হক শিক্ষার্থীদের ন্যায়-নীতি মেনে চলা, জ্ঞানের চর্চা করা এবং আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা একজন মানুষকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হন, তবে দুর্নীতি দমন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ সহজ হয়। আবার নাগরিকরা মূল্যবোধসম্পন্ন হলে তারা আইন মান্য করে, অধিকারের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে এবং রাষ্ট্রের কাজে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করে।
অতএব, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ব্যতীত জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না; মূল্যবোধই সুশাসনের মূল নৈতিক ভিত্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও