পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সুশাসন • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, রংপুর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রহিম একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক। 'তার দেশে রয়েছে দরিদ্রতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জাতিগত বৈষম্য ও বিরোধ ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যা। তবে বর্তমানে শিক্ষা বিস্তার এবং আধুনিকায়নের ফলে নাগরিক সচেতনতা বেড়েছে। যার ফলে রাজনৈতিক দলগুলো ও সুশীল সমাজ সমস্যাগুলো সমাধানে খুবই আগ্রহী।
- ক)(1)
আইন কী?
- খ)(2)
স্বচ্ছতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রহিমের দেশে সুশাসনের কোন কোন বৈশিষ্ট্যর অভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব রহিমের রাষ্ট্রটিতে কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং কার্যকর নিয়মাবলির সমষ্টি, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বচ্ছতা (Transparency) বলতে বোঝায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রকাশ্যতা বজায় রাখা এবং কোনো কিছু গোপন না রাখা। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত কীভাবে, কেন এবং কোন নিয়মে নেওয়া হয়েছে তা নাগরিকদের সহজে জানার অধিকার ও নিশ্চয়তা থাকাই হলো স্বচ্ছতা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব রহিমের দেশে সুশাসনের নিম্নলিখিত প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর অভাব রয়েছে:
১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি: উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিদ্যমান, যা সুশাসনের প্রথম শর্তকেই ক্ষুণ্ণ করে।
২. সাম্য ও সামাজিক সুবিচার: দেশে জাতিগত বৈষম্য ও বিরোধ থাকায় নাগরিকদের সমান অধিকার ও মর্যাদা রক্ষিত হচ্ছে না। সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা।
৩. সমতা ও অন্তর্ভুক্তি (Equity and Inclusiveness): অর্থনৈতিক বৈষম্য ও চরম দরিদ্রতা প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রের সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন ন্যায়সংগত নয়।
৪. ঐকমত্যভিত্তিক শাসন (Consensus Orientation): জাতিগত বিরোধের কারণে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার ঐকমত্যের অভাব দৃশ্যমান।অতএব, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সমতা, সাম্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার অনুপস্থিতি জনাব রহিমের দেশে সুশাসনের বড় ঘাটতি হিসেবে বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব রহিমের রাষ্ট্রটিতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ছে এবং রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ সমাধানে আগ্রহী। এই অনুকূল প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা সম্ভব:
১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: জাতিগত বৈষম্য দূর করে সংবিধান ও আইনের চোখে সকলের সমান মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
২. রাজনৈতিক সংলাপ ও স্থিতিশীলতা আনয়ন: রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে হবে।
৩. সুশীল সমাজের সক্রিয় ভূমিকা: উদ্দীপকে উল্লিখিত সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের সহায়তায় সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং জনকল্যাণমূলক নীতি প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
৪. দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক সমতা: কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুষম উন্নয়ন এবং সম্পদের সমবণ্টনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে হবে।
৫. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সরকারি সকল কাজে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করে দুর্নীতি রোধ করতে হবে।সুতরাং, সচেতন নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রহিমের দেশে বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্পূর্ণরূপে সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও