কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

জসীম উদ্দিনের এলাকায় খেজুর, তাল, লেবু খুব ভালো হয়। মধুপুরের আনারস খাওয়ার পর সেও ঐ জাতের আনারস চাষের চেষ্টা করে। কিন্তু আনারসের মান ও ফলন খুব কম হয়। জসীম উদ্দিন। তার এলাকার কৃষিবিদের পরামর্শক্রমে আনারস চাষে সফল হয়।[Note: খেজুর, তাল ক্ষারীয় মাটিতে ভালো জন্মে। লেবু অম্লীয় প্রকৃতির মাটিতে ভালো জন্মে। একই প্রকৃতির মাটিতে এই তিনটি ফসলের ভালো উৎপাদন সম্ভব নয় বলে প্রশ্নটি ত্রুটিযুক্ত।।

  1. ক)

    মৃত্তিকা বুনট কী?

    (1)
  2. খ)

    জৈব পদার্থ কীভাবে মাটির ভৌত গুণাবলি উন্নত করে?

    (2)
  3. গ)

    জসীম উদ্দিনের এলাকার মাটির বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে কৃষিবিদের পরামর্শের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে প্রদত্ত ফসলের (খেজুর, তাল ও লেবু) স্বভাবগত বৈচিত্র্য সত্ত্বেও এটিকে একটি সাধারণ উঁচু ও নিষ্কাশিত দোআঁশ মৃত্তিকা হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    মাটিতে বিদ্যমান বালিকণা, পলিকণা এবং কর্দমকণার পারস্পরিক তুলনামূলক অনুপাত বা শতকরা হারকে মৃত্তিকা বুনট বলে।

  2. খ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে প্রদত্ত ফসলের (খেজুর, তাল ও লেবু) স্বভাবগত বৈচিত্র্য সত্ত্বেও এটিকে একটি সাধারণ উঁচু ও নিষ্কাশিত দোআঁশ মৃত্তিকা হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    জৈব পদার্থকে মাটির প্রাণ বলা হয়। এটি মাটির কণাগুলোকে একত্রিত করে উন্নত দানাযুক্ত গঠন সৃষ্টি করে। এর ফলে মাটিতে বাতাস চলাচলের পথ সুগম হয় এবং মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া জৈব পদার্থ ভারী এঁটেল মাটিকে হালকা ও ঝুরঝুরে করে এবং বেলে মাটির কণাগুলোকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে সংহতি বাড়ায়, যার মাধ্যমে মাটির সার্বিক ভৌত অবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ঘটে।

  3. গ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে প্রদত্ত ফসলের (খেজুর, তাল ও লেবু) স্বভাবগত বৈচিত্র্য সত্ত্বেও এটিকে একটি সাধারণ উঁচু ও নিষ্কাশিত দোআঁশ মৃত্তিকা হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে জসীম উদ্দিনের এলাকায় খেজুর ও তাল ভালো হয়, যা নির্দেশ করে যে সেখানকার মাটি মূলত উপকূলীয় অথবা কিছুটা শুষ্ক, বেলে দোঁআশ বা লবণাক্ত/ক্ষারীয় প্রকৃতির। আবার সেখানে লেবুও ভালো হয় বলা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই এলাকার মাটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. মাটির প্রকৃতি ও বুনট: এ অঞ্চলের মাটি মূলত হালকা প্রকৃতির, যেমন বেলে দোআঁশ বা পলি দোআঁশ, যার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো।
    ২. মাটির পিএইচ (pH) বা রাসায়নিক মান: খেজুর ও তাল ক্ষারীয় মাটিতে ভালো হলেও লেবুর জন্য সামান্য অম্লীয় মাটির প্রয়োজন হয়। তবে এলাকাটিতে নিরপেক্ষ বা মৃদু ক্ষারীয় মাটির প্রাধান্য বেশি দেখা যায়।
    ৩. পুষ্টি উপাদান ও জলবায়ু: এ অঞ্চলের মাটিতে নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম থেকে মাঝারি ধরনের। এটি মূলত উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি যেখানে বর্ষায় পানি জমে থাকে না।

  4. ঘ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকে প্রদত্ত ফসলের (খেজুর, তাল ও লেবু) স্বভাবগত বৈচিত্র্য সত্ত্বেও এটিকে একটি সাধারণ উঁচু ও নিষ্কাশিত দোআঁশ মৃত্তিকা হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে জসীম উদ্দিন প্রথমে মধুপুরের জাতের আনারস চাষ করে ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে কৃষিবিদের পরামর্শে সফল হন। কৃষিবিদের এই পরামর্শ অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও যথার্থ ছিল, যা নিম্নোক্ত যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. মধুপুরের মাটির সাথে পার্থক্য নিরূপণ: মধুপুরের মাটি লালচে, পাহাড়ি/টিলা এলাকার এবং তীব্র থেকে মাঝারি মাত্রার অম্লীয় (pH ৪.৫ থেকে ৫.৫), যা আনারস চাষের জন্য আদর্শ। জসীম উদ্দিনের এলাকার মাটি মধুপুরের মতো এতটা অম্লীয় ছিল না, যার ফলে প্রথম দিকে মান ও ফলন ভালো হয়নি।
    ২. পিএইচ (pH) সংশোধন: কৃষিবিদ নিশ্চয়ই মাটির পিএইচ পরীক্ষা করে তা আনারস চাষের অনুকূলে আনতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা (যেমন- গন্ধক বা সালফার ব্যবহার করে মাটির পিএইচ কমিয়ে অম্লত্ব বাড়ানো) গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
    ৩. জৈব সার ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা: আনারসের জন্য পর্যাপ্ত জৈব সার এবং পটাশ সারের প্রয়োজন হয়। কৃষিবিদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিমিত মাত্রায় সার ও পানি সেচের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা মাটির ঘাটতি পূরণ করেছে।
    ৪. নিবিড় পরিচর্যা: উন্নত চারা নির্বাচন, সঠিক দূরত্বে রোপণ এবং রোগবালাই দমনের পরামর্শ দেওয়ার কারণেই জসীম উদ্দিন কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে সক্ষম হন।
    অতএব, মাটির ভৌগোলিক ও রাসায়নিক গুণাবলি যাচাই করে যথোপযুক্ত কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়ায় কৃষিবিদের পরামর্শটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন