মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'Psyche' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রদত্ত 'A' চিহ্নিত অংশটি বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রদত্ত 'B' চিহ্নিত অংশটির আলোকে মনোবিজ্ঞানের স্থান মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Psyche' (সাইকি) একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ হলো আত্মা (Soul) বা মন (Mind)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষা মনোবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মানুষের শিখন প্রক্রিয়া, বুদ্ধিমত্তা, ব্যক্তিত্বের বিকাশ, এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর মনস্তাত্ত্বিক নীতিসমূহের প্রয়োগ ঘটায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মানসিক সামর্থ্য, আগ্রহ ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষাদানের অনুকূল পরিবেশ ও আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি প্রণয়ন করা সম্ভব হয়। ফলে শিক্ষার সামগ্রিক মান ও ফলপ্রসূতা বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর ছকে 'A' চিহ্নিত অংশটি নির্দেশ করে 'আচরণ' (Behavior)।
মনোবিজ্ঞানের আধুনিক সংজ্ঞানুযায়ী, মনোবিজ্ঞান হলো আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানসম্মত অনুধ্যান। উদ্দীপকে চারটি উপাদানের মধ্যে 'মানসিক প্রক্রিয়া' এবং 'মানুষ ও প্রাণী' উল্লেখ রয়েছে। অন্য দুটি উপাদান হলো আচরণ ও বিজ্ঞান। ক্রম ও গুরুত্ব অনুযায়ী প্রথম উপাদান 'A' হলো আচরণ।
জীবের যেকোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়ায় যা কিছু প্রকাশ পায়, তাকে আচরণ বলে। আচরণ মূলত উদ্দীপকের প্রতি সাড়া বা প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ। এই আচরণ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে, যেমন:
১. সামগ্রিক ও খণ্ডিতাংশ আচরণ: পুরো শরীর দিয়ে সংঘটিত সমন্বিত কাজ (যেমন- খেলাধুলা করা) সামগ্রিক আচরণ, আর নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গের নড়াচড়া (যেমন- আঙুল নাড়ানো) খণ্ডিতাংশ আচরণ।
২. ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক আচরণ: ব্যক্তির ইচ্ছাধীন কাজ (যেমন- বই পড়া) হলো ঐচ্ছিক, অন্যদিকে ব্যক্তির ইচ্ছার বাইরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে এমন কাজ (যেমন- চোখের পলক পড়া) হলো অনৈচ্ছিক আচরণ।
৩. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আচরণ: যা বাইরে থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায় (যেমন- কথা বলা, হাঁটা) তা বাহ্যিক আচরণ। অন্যদিকে রক্তচাপের পরিবর্তন, হৃৎস্পন্দন ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ আচরণের অন্তর্ভুক্ত।
মনোবিজ্ঞান এইসব বৈচিত্র্যময় আচরণ বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর ছকে 'B' চিহ্নিত অংশটি নির্দেশ করে 'বিজ্ঞান' (Science)।
মনোবিজ্ঞান শুধুমাত্র আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার বর্ণনামূলক আলোচনাই করে না, বরং এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত শাখা। বিজ্ঞানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, শ্রেণিবিন্যাস এবং সার্বজনীন সাধারণীকরণ। নিচে 'বিজ্ঞান' হিসেবে বিজ্ঞানের আঙিনায় মনোবিজ্ঞানের স্থান ও গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হলো:
১. পদ্ধতিগত অনুসন্ধান: সাধারণ বিজ্ঞানের মতো মনোবিজ্ঞানও অনুমানের ওপর নির্ভর করে না; বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যেমন—পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ, কেস স্টাডি, ও জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে।
২. পরীক্ষাগারের ব্যবহার: ১৮৭৯ সালে উইলহেম ভুন্ট জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মনোবিজ্ঞান পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করে মনোবিজ্ঞানকে দর্শনের শাখা থেকে পৃথক করে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র বিজ্ঞানের রূপ দান করেন।
৩. কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: মনোবিজ্ঞান মানুষের আচরণের পেছনের কারণ (Cause) ও তার ফল বা প্রতিক্রিয়া (Effect) নির্ণয় করে, যা বিজ্ঞানের প্রধান একটি লক্ষণ।
৪. জৈব-সামাজিক বিজ্ঞানের অবস্থান: মনোবিজ্ঞান প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের মাঝে একটি সেতুবন্ধন রচনা করে। এটি একদিকে যেমন স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও শারীরিক প্রক্রিয়া অধ্যয়নের দিক থেকে জীববিজ্ঞানের ঘনিষ্ঠ, অন্যদিকে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, কৃষ্টি ও দলীয় আচরণ পর্যালোচনার দিক থেকে সামাজিক বিজ্ঞানের মর্যাদা লাভ করে।সুতরাং, উদ্দীপকে 'B' দ্বারা বিজ্ঞানকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উপরোক্ত বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে বিজ্ঞানের জগতে মনোবিজ্ঞান একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবহারিক ও জীবনমুখী বিজ্ঞান হিসেবে মূল্যায়িত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও