‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মনসুরপুর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেলে মনসুরপুর থানার ওসি কামরুল ইসলাম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন। জেলা জজ আব্দুল আজীজ সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ডাক্তারকে শাস্তি প্রদান করেন।

  1. ক)

    বাংলাদেশের আইনসভার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    আইন বিভাগের কাজগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব কামরুল ইসলাম সরকারের কোন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত? উত্ত বিভাগের কাজগুলো বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব আব্দুল আজীজ সাহেবের বিভাগের স্বাধীনতা কি আইনের শাসন নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের আইনসভার নাম 'জাতীয় সংসদ' (বা House of the Nation)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন বিভাগের প্রধান প্রধান কাজ নিচে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:
    ১. আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও বাতিল: দেশের প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করা এবং পুরনো আইন সংশোধন বা বাতিল করা আইন বিভাগের মূল দায়িত্ব।
    ২. অর্থ সংক্রান্ত কাজ: জাতীয় বাজেট অনুমোদন, নতুন কর আরোপ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা।
    ৩. শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ: প্রশ্নোত্তর পর্ব, অনাস্থা প্রস্তাব ও বিতর্কের মাধ্যমে নির্বাহী বা শাসন বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখা।
    ৪. সংবিধান সংশোধন ও অন্যান্য: সংবিধানের পরিবর্তন সাধন এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিশংসন ও নির্বাচন সংক্রান্ত কার্য সম্পাদন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব কামরুল ইসলাম (থানার ওসি) সরকারের শাসন বা নির্বাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।

    শাসন বিভাগের প্রধান প্রধান কাজগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১. আইন কার্যকর করা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা: আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। উদ্দীপকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কামরুল ইসলামের অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা এই কাজেরই উদাহরণ।
    ২. পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নীতি পরিচালনা: অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা, চুক্তি সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
    ৩. প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কার্যাবলি: বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী পরিচালনা করা।
    ৪. নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম: দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, জনাব আব্দুল আজীজ সাহেবের বিভাগ অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

    আইনের শাসন বলতে বোঝায়—আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সাথে আইনের শাসনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা: বিচার বিভাগ যদি নির্বাহী ও আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকে, তবে বিচারকগণ ভয় বা অনুকম্পা ছাড়া নিরপেক্ষভাবে রায় দিতে পারেন। উদ্দীপকে বিচারক আব্দুল আজীজ প্রমাণ সাপেক্ষে অপরাধীকে শাস্তি দিয়েছেন, যা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার প্রতিফলন।
    ২. মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে স্বাধীন বিচার বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে তা পুনরুদ্ধার করে। বিচার বিভাগ স্বাধীন না থাকলে রাষ্ট্র বা ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হয় না।
    ৩. ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ: শাসন বিভাগের যে-কোনো স্বেচ্ছাচারিতা বা বেআইনি পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে স্বাধীন বিচার বিভাগ। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে।

    পরিশেষে বলা যায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া আইনের শাসন একটি অলীক কল্পনা। অতএব, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতাই দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন