মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প - ১ঃ রানা পূর্বের শিক্ষাকৃত বিষয়গুলোকে পুনরুৎপাদন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।দৃশ্যকল্প-২ঃ
- ক)(1)
স্মৃতির সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
সংরক্ষণকে স্মৃতির উপাদান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রানার শিক্ষাকৃত বিষয়গুলো ভুলে যাওয়াকে মনোবিজ্ঞানে কী বলা হয়? এর যে কোনো তিনটা কারণ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প—২ এর 'খ' এবং 'গ' চিহ্নিত স্মৃতির পার্থক্যসমূহ ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অতীত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষালব্ধ বিষয়কে মস্তিষ্কে ধারণ করে পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুসারে পুনরুৎপাদন বা মনে করার মানসিক প্রক্রিয়াকে স্মৃতি (Memory) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্মৃতির একটি মৌলিক শর্ত হলো অতীত শিখনকে মনের মধ্যে ধরে রাখা। কোনো তথ্য বা বিষয় শেখার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা মনে সংরক্ষিত না থাকে, তবে ভবিষ্যতে তা পুনরুদ্রেক বা চিনতে পারা অসম্ভব। সংরক্ষণ ছাড়া শিখন ও স্মৃতির মধ্যে কোনো ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না; তাই সংরক্ষণকে স্মৃতির অন্যতম অপরিহার্য উপাদান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রানার শিক্ষাকৃত বিষয়গুলো ভুলে যাওয়াকে মনোবিজ্ঞানে 'বিস্মৃতি' (Forgetting) বলা হয়। পূর্বে শেখা কোনো অভিজ্ঞতা বা বিষয় প্রয়োজনমতো পুনরুৎপাদন বা স্মরণ করতে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ব্যর্থ হওয়াই হলো বিস্মৃতি।
বিস্মৃতির তিনটি উল্লেখযোগ্য কারণ নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. অব্যবহার বা সময়ের প্রভাব (Disuse): সময়ের সাথে সাথে কোনো শিক্ষালব্ধ বিষয় চর্চা বা ব্যবহার না করলে মস্তিষ্কে সৃষ্ট স্মৃতিচিহ্নগুলো ধীরে ধীরে ম্লান বা দুর্বল হয়ে যায়, ফলে বিস্মৃতি ঘটে।
২. ব্যতিরেক বা বাধা (Interference): পূর্বে শেখা বিষয় এবং নতুন শেখা বিষয়ের মধ্যকার পারস্পরিক বাধার কারণে তথ্য সহজে মনে পড়ে না। নতুন শিখন যখন পুরনো শিখনে বাধা দেয় তাকে পশ্চাৎমুখী বাধা এবং পুরনো শিখন নতুন শিখনে বাধা দিলে তাকে সম্মুখমুখী বাধা বলে।
৩. প্রেষিত বিস্মৃতি বা অবদমন (Motivated Forgetting / Repression): ফ্রয়েডের মতে, মানুষ যেসব বেদনাদায়ক, উদ্বেগজনক বা লজ্জাজনক অভিজ্ঞতা মনে রাখতে চায় না, সেগুলোকে সচেতন মন থেকে অবচেতন মনে ঠেলে দেয় বা অবদমন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে স্মৃতির তিনটি স্তর প্রদর্শিত হয়েছে। প্রথমটি সংবেদনীয় স্মৃতি হওয়ায় 'খ' হলো স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি (Short-term Memory - STM) এবং 'গ' হলো দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি (Long-term Memory - LTM)।
স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি ('খ') ও দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি ('গ')-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. স্থায়িত্ব বা ধারণকাল: স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিতে তথ্য সাধারণত অতি অল্প সময়ের জন্য (প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড) জমা থাকে। পক্ষান্তরে, দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে তথ্য কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে সারাজীবন বা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়।
২. ধারণক্ষমতা: স্বল্পস্থায়ী স্মৃতির ধারণক্ষমতা খুবই সীমিত। মিলারের মতে এর ধারণক্ষমতা ৭ ± ২ একক বা আইটেম। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতির ধারণক্ষমতা সীমাহীন বা অত্যন্ত সুবিশাল।
৩. সংকেতায়ন বা প্রক্রিয়াকরণ: স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি মূলত ধ্বনিগত বা শ্রুতিগত সংকেতায়নের ওপর বেশি নির্ভরশীল। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি প্রধানত অর্থপূর্ণ বা শব্দার্থগত (semantic) সংকেতায়নের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়।
৪. পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া: স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি থেকে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ও খুব দ্রুত উদ্ধার করা যায়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি থেকে তথ্য পুনরুদ্ধারে সময় বেশি লাগে এবং উপযুক্ত অনুষঙ্গ বা সংকেতের প্রয়োজন হয়।
৫. তথ্যের বিস্মৃতির ধরন: স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিতে নতুন তথ্য প্রবেশের ফলে পুরনো তথ্য অপসারিত হয়ে দ্রুত বিস্মৃতি ঘটে। দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে বিস্মৃতি ঘটে প্রধানত ব্যতিরেক, অনুষঙ্গের অভাব বা অবদমনের কারণে।সুতরাং, স্থায়িত্ব, ধারণক্ষমতা এবং প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির দিক থেকে 'খ' ও 'গ' চিহ্নিত স্মৃতি দুটি পরস্পর স্বতন্ত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও