ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। যে কোনো স্বাধীন দেশ বা জাতির আত্মপ্রকাশের দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন এই ঘোষণাকে অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিরস্কার ও প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করেন।
- ক)(1)
২৫ মার্চ এর সাংকেতিক নাম কি?
- খ)(2)
স্বাধীন বাংলা রেতার কেন্দ্রের ভূমিকা লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘোষণাপত্রের অনুরূপ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘোষণাপত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘোষণাপত্রটিও ছিল অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিরস্কার ও প্রতিবন্ধক-তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এক অবিস্মরণীয় ও প্রেরণাদায়ী ভূমিকা পালন করেছিল। এই বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত দেশাত্মবোধক গান, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার এবং উদ্দীপনামূলক অনুষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল দৃঢ় রাখত এবং অবরুদ্ধ দেশের মুক্তিকামী জনগণকে অনুপ্রেরণা জোগাত। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রচার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সমর্থন আদায়ের প্রয়াস চালানো হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘোষণাপত্রের সাথে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ (Proclamation of Independence)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগরে গঠিত গণপরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের দিন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয়। এই ঘোষণাপত্রে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয় এবং এতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতকরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
উদ্দীপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের কথা বলা হয়েছে, যা একটি জাতির আত্মপ্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের বৈধ ভিত্তি তৈরি করেছিল। একইভাবে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও ছিল মুক্তিযুদ্ধের সাংবিধানিক ভিত্তি ও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের মূল দলিল। তাই উভয় ঘোষণাপত্রের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটিও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার দীর্ঘদিনের অত্যাচার, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট তিরস্কার ও প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছিল। নিম্নে এর স্বপক্ষে যুক্তি প্রদান করা হলো:
পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করে আসছিল। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করে।
এই চরম নিপীড়ন ও অন্যায়ের পটভূমিতে গঠিত মুজিবনগর সরকার ১৭ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে। এই ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, পাকিস্তানি বাহিনী অন্যায়ভাবে বাঙালিদের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছে, যার ফলে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এই দলিলটি পাকিস্তানি হানাদারদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আইনি ও নৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
অতএব, আব্রাহাম লিংকন মার্কিন ঘোষণাপত্র সম্পর্কে যেমন বলেছিলেন, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটিও পাকিস্তানি বর্বর শাসন, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর তিরস্কার ও আইনগত প্রতিবন্ধক হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও