কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
সুজনের বাড়ি মৌলভীবাজারে। সে পড়ালেখা শেষে তাদের যেসব উঁচু জমি আছে সেখানে কমলা চাষ করার সিদ্ধান্ত নিল। এ ব্যাপারে সে পরামর্শের জন্য একজন উদ্যানতত্ত্ববিদের নিকট গেল। কীভাবে চারা রোপণ করতে হয়, ফসলের জমিতে রোগবালাই হলে কী করতে হয়- এসব নানা বিষয় তার কাছ থেকে জানতে পারল।
- ক)(1)
রেটুন চাষ কী?
- খ)(2)
'ফুল চাষ লাভজনক' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সুজন কীভাবে ঐ ফসলের চারা রোপণ করবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রোগ ও পোকা দমনে সুজন কী কী কৌশল অবলম্বন করবে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফসল কাটার পর গোড়া থেকে পুনরায় যে কুঁড়ি বা চারা গজায়, তা থেকে পরবর্তী ফসল উৎপাদন করার পদ্ধতিকে রেটুন চাষ বলে (যেমন: আখের রেটুন চাষ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফুল চাষ অত্যন্ত লাভজনক, কারণ ধান বা অন্যান্য সাধারণ ফসলের তুলনায় ফুল চাষে অল্প জমিতে কম সময়ে অধিক অর্থনৈতিক মুনাফা পাওয়া যায়। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং বিবাহ, পূজা, জাতীয় দিবস ইত্যাদিতে ফুল বিক্রি করে দ্রুত নগদ অর্থ উপার্জন সম্ভব হয়, যা কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফসলটি হলো কমলা। সুজন নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে উঁচু জমিতে কমলার চারা রোপণ করবে:
১. গর্ত তৈরি: মে-জুন মাসে জমি নির্বাচন করে ৪-৫ মিটার দূরত্বে ৭৫ সেমি × ৭৫ সেমি × ৭৫ সেমি আকারের গর্ত খনন করতে হবে।
২. সার প্রয়োগ: গর্তের ওপরের মাটির সাথে পর্যাপ্ত পচা গোবর বা কম্পোস্ট, টিএসপি, এমপি ও চুন ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে ১০-১৫ দিন রেখে দিতে হবে।
৩. চারা রোপণ: বর্ষার শুরুতে বা শেষে একটি সতেজ, নিরোগ কলমের চারা গর্তের ঠিক মাঝখানে সোজাভাবে রোপণ করতে হবে।
৪. পরবর্তী পরিচর্যা: রোপণের পর চারার গোড়ায় হালকা চাপ দিয়ে মাটি শক্ত করে দিতে হবে, পানি সেচ দিতে হবে এবং সোজা রাখার জন্য খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কমলা চাষে রোগ ও পোকা দমনে সুজন সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) সহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কৌশল অবলম্বন করবে:
১. রোগ দমন কৌশল:
- ডাই-ব্যাক বা আগামরা রোগ: আক্রান্ত ডালপালা কিছু সুস্থ অংশসহ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং কর্তিত অংশে বোর্দো মিশ্রণ বা ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
- ক্যাংকার রোগ: এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। আক্রান্ত পাতা বা ডাল ছেঁটে ফেলতে হবে এবং কপার অক্সিক্লোরাইড জাতীয় ছত্রাক/জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে।
- গামোসিস বা আঠাক্ষরণ রোগ: আক্রান্ত ছাল চেঁছে ফেলে বোর্দো পেস্ট লাগাতে হবে।
২. পোকা দমন কৌশল:
- ফল ছিদ্রকারী পোকা: আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। অনুমোদিত কীটনাশক মাত্রা অনুযায়ী সঠিক সময়ে স্প্রে করতে হবে।
- সাইলিড পোকা ও এফিড (জাবপোকা): এরা রস চুষে খায় এবং ভাইরাস ছড়ায়। এদের দমনে মেলাথিয়ন বা ডাইমেথোয়েট জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
- শুঁয়োপোকা বা পাতা খেকো পোকা: হাত দিয়ে ধরে মেরে ফেলতে হবে বা জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।
এভাবে নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, আগাছা পরিষ্কার এবং সুষম সার ও সঠিক সেচ প্রদান করে সুজন রোগ ও পোকা সফলভাবে দমন করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও