ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

৫ আগস্ট ২০২৪-বাংলাদেশের মানুষ অন্যরকম এক বিজয় দেখল। স্বৈরাচার বিরোধী অসংখ্য মানুষের ঢল ক্ষমতাসীনদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করল অথচ দু'বছর আগেও মানুষ ভাবতে পারেনি যে, এমনটা সম্ভব। রাষ্ট্র ৩-৪ দিন সরকারবিহীন থাকল। তারপরও বিজয়ীদের পক্ষ থেকে কোনো রক্তপাত হলো না, ধ্বংসলীলা হলো না, বরং জীবন-সম্পদ রক্ষায় সকলে স্বতঃস্ফূর্ত এগিয়ে এলো। সর্বত্র বিজয় ও মানবতার পতাকা পতপত করে উড়তে থাকল।

  1. ক)

    'ফাতহুম মুবিন' অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    খালিদ বিন ওয়ালিদ বিখ্যাত কেন? সংক্ষেপে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    সংখ্যা-বিচারে উদ্দীপকের বিজয়ী দলের সাথে মক্কা বিজয়ী মুসলমানদের সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে মক্কা বিজয়-পরবর্তী বিজয়ী মুসলমানদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ফাতহুম মুবিন' (فتح مبين) অর্থ হলো সুস্পষ্ট বা প্রকাশ্য বিজয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) তাঁর অসাধারণ রণকৌশল, সামরিক প্রজ্ঞা এবং অপরাজেয় বীরত্বের জন্য ইতিহাসে বিখ্যাত। মহানবি (স.) তাঁর যুদ্ধকুশলতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'সাইফুল্লাহ' বা 'আল্লাহর তরবারি' উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি মুতা, হুনাইন, ইয়ারমুকসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত স্বৈরাচার বিরোধী বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢলের সাথে মক্কা বিজয়ের অভিযানে অংশগ্রহণকারী বিশাল মুসলিম বাহিনীর সংখ্যার দিক থেকে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

    ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (স.) যখন মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন, তখন তাঁর সাথে ছিল দশ হাজার সুসংগঠিত মুসলিম সেনার এক বিশাল বাহিনী। তৎকালীন আরবের ইতিহাসে এটি ছিল এক নজিরবিহীন বিপুল সমাবেশ। কুরাইশরা এই বিপুল সৈন্যের উপস্থিতি দেখে কোনো প্রকার প্রতিরোধ গড়ার সাহস পায়নি এবং বিনা রক্তপাতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, অসংখ্য সাধারণ মানুষের বিশাল গণজোয়ার বা ঢল ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগ ও পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। ফলে বিশাল লোকবলের সমাবেশ ও সংখ্যার আধিক্যের চাপে বিনা বাধায় বিজয় অর্জনের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে মক্কা বিজয়ের মুসলমানদের স্পষ্ট সামঞ্জস্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত অহিংস ও মানবিক পরিস্থিতি মক্কা বিজয়-পরবর্তী রাসুলুল্লাহ (স.) ও মুসলমানদের মহানুভবতার কর্মকাণ্ডের অনন্য প্রতিচ্ছবি।

    মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (স.) কোনো ধরনের রক্তপাত, প্রতিশোধ বা ধ্বংসলীলা চালাননি। দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে যেসব কুরাইশরা মুসলমানদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল, ঘরছাড়া করেছিল এবং যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, বিজয়ের পর তাদের প্রতি রাসুল (স.) ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তিনি আবু সুফিয়ানের ঘরে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদেরও নিরাপদ ঘোষণা করেন। মুসলমানদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লুটতরাজ বা সহিংসতা ঘটেনি, বরং কাবাঘরকে মূর্তিমুক্ত করে একত্ববাদ ও মানবতার পতাকা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

    উদ্দীপকেও বিজয়ের পর সরকারবিহীন পরিস্থিতিতে কোনো রক্তপাত বা ধ্বংসযজ্ঞ না চালিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বিজয়ীদের এগিয়ে আসার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা মক্কা বিজয়ের ক্ষমার মহত্ত্ব ও মানবতার সুমহান আদর্শের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং মক্কা বিজয়-পরবর্তী কার্যক্রম ছিল প্রতিহিংসামুক্ত মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন