ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' ভূমিরূপটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি একটি দোয়াব অঞ্চল। 'খ' ভূমিরূপটি একই দেশের দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এখানে জোয়ার-ভাটার প্রভাব বিদ্যমান ।

  1. ক)

    প্লাবন সমভূমি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    লাভা গঠিত পর্বতের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূমিরূপের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ভূমিরূপের গঠনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পলি সঞ্চিত হয়ে নদী অববাহিকায় যে সুবিস্তৃত সমতল ভূমি গঠিত হয়, তাকে প্লাবন সমভূমি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লাভা গঠিত পর্বতের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. এই পর্বত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা, ছাই ও ভস্ম সঞ্চিত হয়ে সাধারণত মোচাকৃতি বা শঙ্কু আকৃতি ধারণ করে।
    ২. পর্বতের শীর্ষে একটি মুখ বা গহ্বর থাকে, যা জ্বালামুখ (Crater) নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূমিরূপটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দোয়াব অঞ্চল, যা মূলত 'বরেন্দ্রভূমি' (Barind Tract)।

    বর্ণনা:
    ১. অবস্থান ও বিস্তার: বরেন্দ্রভূমি প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বিস্তৃত, যার আয়তন প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
    ২. ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: এ অঞ্চলটি প্লাবন সমভূমি থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং সামান্য ঢেউখেলানো বা তরঙ্গায়িত। এর উচ্চতা সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ থেকে ১২ মিটার। পদ্মা ও যমুনা নদীর মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চলে এটি অবস্থিত।
    ৩. মৃত্তিকা: বরেন্দ্রভূমির মাটি লাল ও ধূসর বর্ণের, যা মূলত কঙ্করময় এবং লোহার উপাদানে সমৃদ্ধ। এ মাটি অত্যন্ত শক্ত ও আঁটসাঁট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ভূমিরূপটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত জোয়ার-ভাটা প্লাবিত অঞ্চল, যা মূলত 'উপকূলীয় সমভূমি' বা সুন্দরবন সংলগ্ন ব-দ্বীপীয় প্লাবন সমভূমি।

    এর গঠনগত বৈশিষ্ট্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. জোয়ার-ভাটার প্রভাব: এই অঞ্চলের প্রধান গঠনগত বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়মিত জোয়ার-ভাটা দ্বারা প্লাবিত হয়। ফলে সমুদ্রের লোনা পানি ও নদীর মিঠা পানির সংযোগ এখানে ঘটে।
    ২. সঞ্চিত পলি ও কাদামাটি: নদীসমূহ বাহিত সূক্ষ্ম পলি, কাদা ও বালুকারাশি মোহনায় এবং উপকূলীয় খাঁড়িসমূহে জমে এ ভূমিরূপ গঠিত হয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি প্রধানত পলিযুক্ত এঁটেল ও লবণাক্ত।
    ৩. সমতল ভূপ্রকৃতি ও নিম্ন উচ্চতা: এ অঞ্চল অত্যন্ত সমতল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা খুবই কম (১ থেকে ৩ মিটারের মধ্যে)।
    ৪. অসংখ্য নদীনালা ও খাঁড়ি: এ অঞ্চলটি অসংখ্য শাখা নদী, উপনদী ও খাঁড়ি (Creeks) দ্বারা জালের মতো বিন্যস্ত।
    ৫. ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের উপস্থিতি: জোয়ার-ভাটার প্লাবন এবং লবণাক্ততার সাথে অভিযোজিত হয়ে এখানে বিখ্যাত সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনভূমি গড়ে উঠেছে, যার ঠেসমূল ও শ্বাসমূল ভূমির মাটিকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে দৃঢ়তা প্রদান করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন