সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

সায়রার বয়স মাত্র ১৫। প্রবাসফেরত জলিলের সাথে পরিবারের সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সায়রা।

  1. ক)

    সামাজিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য লিখ?

    (1)
  2. খ)

    জলবায়ু পরিবর্তনের একটি কারণ ব্যাখ্যা কর?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সমস্যা মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক সমস্যার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানবকল্যাণ ও সমাজের অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর এবং সামগ্রিক সমাজব্যবস্থাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস) অত্যধিক ব্যবহার। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন—কার্বন ডাই-অক্সাইড) নির্গত হয়, যা পৃথিবীর উত্তাপ আটকে রেখে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি করে এবং জলবায়ুর মারাত্মক পরিবর্তন ঘটায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ‘বাল্যবিবাহ’ (Child Marriage) নামক মারাত্মক সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত রয়েছে।

    আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে মেয়েদের বিবাহের ন্যূনতম বৈধ বয়স ১৮ বছর। ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিবাহ দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় এবং তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সায়রার বয়স মাত্র ১৫ বছর, যা আইনসিদ্ধ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সের তুলনায় কম। তা সত্ত্বেও পরিবারের সম্মতিতে প্রবাসফেরত জলিলের সাথে তার বিয়ে দেওয়া হয়। আইন অমান্য করে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সায়রার এই বিবাহ নিশ্চিতভাবেই বাল্যবিবাহ সমস্যাকে স্পষ্ট নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বাল্যবিবাহ সমস্যা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী ভূমিকা পালন করতে পারেন:

    ১. সচেতনতা সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধকরণ: বাল্যবিবাহের ফলে নারীদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি এবং শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে পরিবার ও সমাজে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারেন।
    ২. আইনের কার্যকর প্রয়োগে সহযোগিতা: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা এবং কোথাও বাল্যবিবাহ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় তা বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা।
    ৩. কাউন্সেলিং প্রদান: অভিভাবকদের প্রবাসফেরত বা লোভনীয় প্রস্তাবের মোহে না পড়ে কন্যার শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে সমাজকর্মী পারিবারিক কাউন্সেলিং করতে পারেন।
    ৪. কমিউনিটি মোবিলাইজেশন: সমাজের শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও তরুণ সমাজকে যুক্ত করে বাল্যবিবাহ বিরোধী দল বা নজরদারি কমিটি গঠন করা।
    ৫. নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়ন জোরদার: দরিদ্র পরিবারের কন্যাশিশুদের জন্য উপবৃত্তি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সরকারি-বেসরকারি সুযোগের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে তাদের দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে সমাজকর্মী ভূমিকা রাখেন।

    অতএব, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা এবং শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে একজন সমাজকর্মী কার্যকরভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে পারেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন