সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রফিক সাহেব ক্লাসে এমন কিছু চিন্তাবিদের নাম বললেন যাদের গবেষণা কিংবা চিন্তা চেতনা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে এ ধারা আরও সমৃদ্ধ হয়। আধুনিককালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরাধ প্রবণতা সম্পর্কে। জানতে এই বিষয়টি কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এই বিষয়ের জ্ঞান দ্বারাই যেকোনো সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব।

  1. ক)

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের জনক কে?

    (1)
  2. খ)

    সমাজবিজ্ঞান চর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে— উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের জনক হলেন অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও আধুনিক সমাজবিজ্ঞান চর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় এবং অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূচনা ঘটে। এ বিভাগ থেকেই দেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থা, সামাজিক পরিবর্তন ও জাতীয় বিভিন্ন সমস্যার ওপর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণার ধারা সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজচিন্তাবিদদের ভাবনা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমল ও আধুনিক যুগ পর্যন্ত বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার ঐতিহাসিক পটভূমি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাচীন ও মধ্যযুগে কৌটিল্য, আবুল ফজল প্রমুখ চিন্তাবিদদের রচনায় এ অঞ্চলের সমাজ ও সংস্কৃতির নিখুঁত চিত্র প্রতিফলিত হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত হয় এবং এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক ইতিহাস অনুসন্ধানের গতি বাড়ে। এরপর পাকিস্তান আমলে ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এর আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভিন্ন চিন্তাবিদদের ভূমিকা এবং ব্রিটিশ আমলে সমাজ গবেষণার ধারা সমৃদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত সমাজবিজ্ঞানের এই ক্রমবিকাশের পটভূমিকেই তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে— উক্তিটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

    সমাজবিজ্ঞান মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক সমস্যা ও পরিবর্তনের সামগ্রিক দিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পর্যালোচনা করে। উদ্দীপকে দুটি প্রধান ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে:

    ১. সমসাময়িক সামাজিক সমস্যার বাস্তবমুখী অনুধাবন: উদ্দীপকে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরাধ প্রবণতার মতো জটিল সামাজিক সমস্যার কথা বলা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞান এসব সমস্যার মূল কারণ, বিস্তার এবং সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করে কার্যকর সমাধানের পথ নির্দেশ করে।

    ২. সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এই বিষয়ের জ্ঞান দ্বারাই যেকোনো সামাজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব। এটি অনস্বীকার্য যে, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা পরিকল্পনা সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ, মনোভাব ও জনগণের চাহিদা জানা অপরিহার্য, যা কেবল সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

    অতএব, সমাজকে সামগ্রিকভাবে জানা, সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণ এবং একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সমাজবিজ্ঞান পাঠের অপরিহার্যতা উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রতিভাত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন