ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • প্রাক-ইসলামি আরব • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
অথৈদের সমাজে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষমতা নারীর জন্য সংরক্ষিত। পুরুষদের সুনির্দিষ্ট অধিকার থাকলেও তারা নিয়ন্ত্রিত হয় নারীদের দ্বারা। তারা কঠিনভাবে ধর্ম-কর্মে বিশ্বাসী। মৃত্যুর পরে যে জীবন আছে এবং সে জীবনে বেঁচে থাকা বা সুখ-শান্তিতে কাটানোর জন্য মৃতদেহের সাথে সমাধিতে তারা রসদাদি এমনকি ব্যবহার্য জিনিসপত্রও দিয়ে দিত।
- ক)(1)
মিসরকে কীসের দেশ বলা হয়?
- খ)(2)
মিসরকে নীল নদের দান বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
অথৈদের পরিবারের সাথে প্রাচীন মিসরীয়দের পরিবারের সামঞ্জস্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে অথৈদের সমাজের মানুষের ধর্মচিন্তা প্রাচীন মিসরীয়দের ধর্মচিন্তার অনুরূপ ছিল কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিসরকে 'পিরামিডের দেশ' (বা 'নীল নদের দান') বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস মিসরকে 'নীল নদের দান' বলে অভিহিত করেছেন। কারণ নীল নদ না থাকলে মিসর একটি শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হতো। নীল নদের নিয়মিত বন্যায় পলিমাটি জমে দুই তীরের জমি অত্যন্ত উর্বর হতো, যা কৃষিকাজের বিকাশ ঘটিয়ে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা গড়ে তুলতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অথৈদের পরিবারের সাথে প্রাচীন মিসরীয় পরিবারের মাতৃতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অথৈদের সমাজে পরিবারের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নারীর হাতে সংরক্ষিত এবং পরিবারে নারীদের কর্তৃত্ব বিদ্যমান।
প্রাচীন মিসরীয় সমাজব্যবস্থায়ও নারীদের অত্যন্ত উচ্চ ও সম্মানজনক মর্যাদা ছিল। মিসরীয় পরিবার প্রধানত মাতৃতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। সেখানে সম্পত্তির উত্তরাধিকার মায়ের দিক থেকে মেয়েদের কাছে হস্তান্তরিত হতো এবং পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করতেন। উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবার ব্যবস্থাও এই মাতৃতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক হওয়ায় তা প্রাচীন মিসরীয় পরিবার ব্যবস্থার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত অথৈদের সমাজের মানুষের ধর্মচিন্তা প্রাচীন মিসরীয়দের ধর্মচিন্তার অনুরূপ ছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সমাজের মানুষ কঠোরভাবে ধর্মবিশ্বাসী এবং তারা পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। তারা মনে করে মৃত্যুর পরেও জীবন রয়েছে এবং সেখানে সুখ-শান্তিতে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে মৃতদেহের সাথে সমাধিতে রসদ ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য দ্রব্যাদি দিয়ে দেয়।
প্রাচীন মিসরীয়দের ধর্মেও পরকাল ও পুনর্জন্মের ধারণা ছিল অত্যন্ত প্রবল। মিসরীয়রা বিশ্বাস করত মৃত্যুর পর আত্মা বেঁচে থাকে এবং অনন্ত জীবনের সূচনা হয়। পরকালে মৃত ব্যক্তির স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তারা মৃতদেহকে মমি করে সুরক্ষিত রাখত এবং পিরামিড বা সমাধিতে মৃতদেহের সাথে খাবার, পানীয়, সোনা-দানা, আসবাবপত্র ও প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় নানা দ্রব্যাদি রেখে দিত। এমনকি রাজা-রানিদের সমাধির সাথে তাদের প্রিয় সামগ্রী দেওয়া হতো।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, পরকাল ভাবনা এবং সমাধিসৌধে মৃতদেহের সাথে পার্থিব দ্রব্যাদি দেওয়ার যে ধর্মবিশ্বাস অথৈদের সমাজে বিদ্যমান, তা হুবহু প্রাচীন মিসরীয়দের ধর্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। অতএব, বক্তব্যটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও