ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়ের জন্য 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড' গঠন করেছে। বোর্ডের প্রধানকে বলা হয় 'চেয়ারম্যান'। রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কাজ হলো সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করা, হিসাব সংরক্ষণ করা এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত কাজ সম্পাদন করা। রাজস্বের প্রধান খাতগুলো হলো আয়কর, ভ্যাট, আমদানি ও রপ্তানি কর, বাণিজ্য কর, সেবা করসহ অন্যান্য খাত।

  1. ক)

    খলিফা ওমর (রা) তাঁর সাম্রাজ্যকে কতটি প্রদেশে বিভক্ত করেছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    খলিফা ওমর (রা) সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের' আদলে কোন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে খলিফা ওমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থা পর্যালোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খলিফা ওমর (রা) প্রশাসনিক সুবিধার জন্য তাঁর সমগ্র সাম্রাজ্যকে ৮টি প্রদেশে বিভক্ত করেছিলেন (কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে ১৪টি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘বায়তুল মাল’ হলো ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কোষাগার বা জাতীয় অর্থভাণ্ডার। রাষ্ট্রের সকল প্রকার রাজস্ব ও কর, যেমন—জাকাত, জিজিয়া, খারাজ, উশর, গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ এখানে জমা হতো এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়, জনকল্যাণমূলক কাজ ও নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষায় তা ব্যয় করা হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খলিফা ওমর (রা) সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনার জন্য 'দেওয়ান' বা 'দেওয়ান-উল-খারাজ' (রাজস্ব বিভাগ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব আদায় ও হিসাব সংরক্ষণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গঠন করেছে। একইভাবে খলিফা ওমর (রা) ইসলামী সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির পর রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সেনাবাহিনীর আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারস্যের অনুকরণে 'দেওয়ান' নামক রাজস্ব দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব বা খারাজসহ অন্যান্য কর সুনির্দিষ্ট নিয়মে আদায় ও নথিভুক্ত করা হতো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোর মতো খলিফা ওমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, বিজ্ঞানসম্মত ও কল্যাণমুখী।

    খলিফা ওমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থায় আয়ের প্রধান প্রধান উৎস ছিল:
    ১. খারাজ (অমুসলিম প্রজাদের কৃষিজমির ওপর ধার্যকৃত কর),
    ২. জিজিয়া (অমুসলিম নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার বিনিময়ে প্রদত্ত নিরাপত্তা কর),
    ৩. জাকাত (মুসলমানদের সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট হারে ধার্য বাধ্যতামূলক দান),
    ৪. উশর (মুসলমান কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ওপর ধার্যকৃত ভূমিকর),
    ৫. খুমাশ বা গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের রাষ্ট্রীয় অংশ বা এক-পঞ্চমাংশ), এবং
    ৬. উশুর (বাণিজ্যিক শুল্ক)।

    ওমর (রা) জমি জরিপের ব্যবস্থা করেন, কৃষকদের ওপর করভার লাঘব করেন এবং কর আদায়ে কোনো প্রকার নির্যাতন নিষিদ্ধ করেন। সংগৃহীত অর্থ বায়তুল মালে সংরক্ষিত হতো এবং তা প্রশাসনিক ব্যয়, সামরিক ভাতা, অবকাঠামো নির্মাণ ও জনসাধারণের কল্যাণমূলক ভাতার জন্য ব্যয় হতো। উদ্দীপকের আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থার মতো ওমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থাও রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন