সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ডিসেম্বরের ছুটিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্যারের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী শিক্ষা সফরে রওয়ানা হলেন। শীতকাল হলেও অনেকেই গরম পোষাক সঙ্গে নেননি। কারও গায়ে.যেন 'শীতের তীব্রতা নেই। স্যার বিষয়টি লক্ষ করলেন এবং মৃদু বকাবকি করলেন। এক ছাত্র বিনয়ের সাথে বলল, স্যার এ বছর শীত একেবারেই নেই। স্যারও বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বললেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃক্ষ নিধনের ফলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও জলোচ্ছ্বাসের নিরব শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।

  1. ক)

    'আইন-ই-আকবরি' গ্রন্থটি কার লেখা?

    (1)
  2. খ)

    "বার্ধক্য হচ্ছে দ্বিতীয় শৈশব"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শিক্ষাথীদের শীত অনুভূত না হওয়া কীসের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের স্যারের বক্তব্যের বিষয়টি প্রতিকারের জন্য তোমার মতামত কী? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আইন-ই-আকবরি' গ্রন্থটি আবুল ফজল-এর লেখা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বার্ধক্যে মানুষ শৈশবের মতো দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বলে বার্ধক্যকে দ্বিতীয় শৈশব বলা হয়।

    বৃদ্ধ বয়সে মানুষের শারীরিক শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে শিশুদের মতো তাদেরও অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, খাওয়াদাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যায়। আচরণগতভাবেও প্রবীণরা অনেক সময় শিশুদের মতো অভিমানী ও স্নেহপ্রত্যাশী হয়ে ওঠেন। এসব কারণে বার্ধক্যকে 'দ্বিতীয় শৈশব' বলা হয়ে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের ডিসেম্বরের শীতেও তীব্রতা বা শীত অনুভূত না হওয়া জলবায়ুর পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।

    জলবায়ু পরিবর্তন হলো দীর্ঘ মেয়াদে পৃথিবীর আবহাওয়ার উপাদানের (যেমন তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, ঋতুচক্র ইত্যাদি) অস্বাভাবিক ও স্থায়ী পরিবর্তন। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণ এবং মানবসৃষ্ট বিভিন্ন পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ফলে পৃথিবীর সামগ্রিক তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে স্বাভাবিক ঋতুচক্র ব্যাহত হচ্ছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে স্বাভাবিকভাবেই শীতের প্রকোপ থাকার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা শীত অনুভব করছে না এবং স্যারের মন্তব্যেও স্পষ্ট হয় যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ঋতুর আচরণ বদলে গেছে। এটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট উষ্ণায়নেরই বহিঃপ্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের স্যারের বক্তব্যে পরিবেশ বিপর্যয়, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের যে কুফল তুলে ধরা হয়েছে, তা প্রতিকারের জন্য একটি সমন্বিত ও টেকসই পরিবেশগত পরিকল্পনা গ্রহণ আবশ্যক। নিচে এ সংক্রান্ত মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ব্যাপক বনায়ন ও বৃক্ষনিধন রোধ: বৃক্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই বৃক্ষনিধন নিষিদ্ধ করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিকল্পিত বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।

    ২. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস: কয়লা, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়ায়। এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ুবিদ্যুৎ প্রভৃতি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

    ৩. শিল্পবর্জ্য ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ: কলকারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ধোঁয়া ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে ইটিপি (ETP) এবং আধুনিক ফিল্টারিং প্রযুক্তির বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।

    ৪. টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।

    ৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরে পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

    পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত বৈশ্বিক উষ্ণতা ও দুর্যোগের সংকট থেকে উত্তরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের সচেতনতা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন