সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ছকের আলোকে প্রশ্নগুলোার উত্তর দাওঃ
- ক)(1)
অণু পরিবার কী?
- খ)(2)
’সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া’- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাববিস্তারকারী কোন উপাদানটি বসবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ সাধনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব অনস্বীকার্য— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তান-সন্ততি নিয়ে গঠিত পরিবারকে অণু পরিবার বা একক পরিবার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিকীকরণ হলো এমন একটি শিখন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজের কাঙ্ক্ষিত আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও আচরণ আয়ত্ত করে সমাজের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে। মানুষের জন্মের পর থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই নতুন নতুন পরিবেশ, পরিস্থিতি ও ভূমিকার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয় এবং নতুন নতুন আচরণ শিখতে হয়। শৈশব, কৈশোর, যৌবন কিংবা বার্ধক্য—জীবনের কোনো স্তরেই এই শিখন প্রক্রিয়া থেমে থাকে না। তাই সামাজিকীকরণকে একটি নিরবচ্ছিন্ন বা জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে মানবজীবনে প্রভাববিস্তারকারী মৌল উপাদান হিসেবে 'সংস্কৃতি' (Culture) বসবে।
সমাজবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলরের মতে, সংস্কৃতি হলো সমাজ বা মানব সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, কলা, নীতি, আইন, প্রথা এবং অন্যান্য সকল অভ্যাস ও সামর্থ্যের এক জটিল সমষ্টি। সংস্কৃতি প্রধানত দুই প্রকার: বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি। মানুষের তৈরি দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য উপাদানগুলো হলো বস্তুগত সংস্কৃতি, যেমন উদ্দীপকের বামপাশে উল্লেখিত কৃষি প্রযুক্তি, শিল্প প্রযুক্তি, নির্মাণ প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। অন্যদিকে মানুষের চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান, মূল্যবোধ ও সৃষ্টিশীলতা হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি, যেমন ডানপাশে উল্লেখিত ভাষা, সাহিত্য, লোকরীতি ও শিল্পকলা।
উদ্দীপকের ছকে বস্তুগত সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রায়োগিক দিক এবং অবস্তুগত সংস্কৃতির বিভিন্ন মানসিক ও সামাজিক উপাদান সম্মিলিতভাবে কেন্দ্রীয় ধারণাকে নির্দেশ করছে। এই দুইয়ের সম্মিলনই হলো সামগ্রিক সংস্কৃতি, যা মানুষের জীবনকে সার্বিকভাবে পরিচালিত ও প্রভাবিত করে। সুতরাং '?' চিহ্নিত স্থানে সংস্কৃতি বসবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজ ও সভ্যতার বিকাশ সাধনে সংস্কৃতি উপাদানটির প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও অনস্বীকার্য। নিম্নে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো:
সংস্কৃতি হলো সমাজ ও সভ্যতার মূল ভিত্তি ও চালিকাশক্তি। নৃবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের ভাষায়, "আমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতি, আর যা ব্যবহার করি তা হলো আমাদের সভ্যতা।" সভ্যতার বাহ্যিক রূপটি গড়ে ওঠে বস্তুগত সংস্কৃতির হাত ধরে এবং সভ্যতার অভ্যন্তরীণ চেতনা ও মূল্যবোধ পরিচালিত হয় অবস্তুগত সংস্কৃতির মাধ্যমে।
প্রথমত, বস্তুগত সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান, যেমন কৃষি প্রযুক্তি, শিল্প প্রযুক্তি, নির্মাণ প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মানবসমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে রূপান্তরিত করেছে। শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পসমাজে উত্তরণ ঘটেছে প্রযুক্তিগত ও বস্তুগত সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের ফলেই। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং সভ্যতার কাঠামোগত ভিত্তি মজবুত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অবস্তুগত সংস্কৃতির উপাদান যেমন ভাষা, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং লোকরীতি সমাজের সংহতি, শৃঙ্খলা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করে। ভাষার মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। লোকরীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধ করে সমাজকে সুসংহত রাখে। শিল্প ও সাহিত্য মানুষের মানসিক উৎকর্ষ সাধন করে সমাজকে প্রগতিশীল ধারায় এগিয়ে নেয়।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয় সংস্কৃতির পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও রূপান্তরের মাধ্যমেই মানবসমাজ বর্তমান আধুনিক স্তরে পৌঁছেছে। তাই সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ ও স্থায়িত্বে সংস্কৃতির অবদান অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও