সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. সাকিব চৌধুরী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। মালামাল ক্রয়ে তিনি প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। অপরদিকে বস্তিতে বসবাসরত স্বামীহারা হাজেরা খাতুন নিজের সন্তানদের জন্য খাদ্যের জোগাড় না করতেপেরে মালিকের বাসা থেকে চাল-ডাল চুরির অপরাধে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন।
- ক)(1)
সামাজিক প্রগতি কী?
- খ)(2)
"সকল সমাজই ছিল স্তরায়িত" ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধ কী ধরনের? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরীর এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন- উক্তিটির মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজস্বীকৃত এবং মানবকল্যাণকর কোনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে সমাজের ইতিবাচক রূপান্তর বা পরিবর্তনই হলো সামাজিক প্রগতি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানী সোরোকিনের মতে, মানব ইতিহাসের সকল সমাজই কম-বেশি স্তরায়িত ছিল। সমাজস্তরবিন্যাস হলো এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ক্ষমতা, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা, বর্ণ বা পেশার ভিত্তিতে সমাজের মানুষকে বিভিন্ন স্তরে বা শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। আদিম সাম্যবাদী সমাজ ছাড়া প্রাচীন দাস সমাজ, সামন্ত সমাজ কিংবা আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজ— সর্বত্রই শাসক-শাসিত, ধনী-দরিদ্র কিংবা উচ্চ-নিম্ন মর্যাদার বিভাজন বিদ্যমান ছিল। এ কারণেই বলা হয় "সকল সমাজই ছিল স্তরায়িত"।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধটি হলো 'ভদ্রবেশী অপরাধ' বা 'হোয়াইট কলার ক্রাইম' (White Collar Crime)।
সমাজবিজ্ঞানী এডউইন সাদারল্যান্ডের মতে, সমাজের উচ্চ বা মর্যাদাবান শ্রেণির ব্যক্তিরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা জালিয়াতি করে, তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। উদ্দীপকে মি. সাকিব চৌধুরী একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হিসেবে উচ্চ সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা ভোগ করেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি ভাউচার দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এটি কোনো সাধারণ শারীরিক সহিংস অপরাধ নয়, বরং পেশাগত সুযোগের অপব্যবহার ঘটিয়ে করা আর্থিক দুর্নীতি। সুতরাং, এটি স্পষ্টতই ভদ্রবেশী অপরাধ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. সাকিব চৌধুরী এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধের ধরন ও পেছনের আর্থ-সামাজিক চালিকাশক্তি সর্বদা এক নয়। মি. সাকিব চৌধুরীর অপরাধটি 'ভদ্রবেশী অপরাধ' (White Collar Crime), যার প্রেক্ষাপট লোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অতিরিক্ত বিত্তবৈভবের আকাঙ্ক্ষা। সমাজে উচ্চ পদমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেন। এর ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা বিনষ্ট হয়।
অপরদিকে, বস্তিবাসী হাজেরা খাতুনের অপরাধটি চিরাচরিত অপরাধ বা নীলকলার অপরাধের অন্তর্গত, যার পেছনে কাজ করেছে চরম দারিদ্র্য ও বেঁচে থাকার তাগিদ। স্বামীহারা ও অসহায় হয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পেরে তিনি চাল-ডাল চুরির আশ্রয় নেন। রবার্ট কে. মার্টন তাঁর 'অ্যানোমি' তত্ত্বে দেখিয়েছেন যে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণের জন্য বৈধ উপায় না পেয়ে মানুষ অনেক সময় বিচ্যুত আচরণ করে। হাজেরার অপরাধটি কোনো লোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং টিকে থাকার চরম অসহায়ত্বের সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত।
অতএব, দেখা যায় যে সাকিব চৌধুরীর অপরাধের মূলে লোভ ও ক্ষমতা এবং হাজেরা খাতুনের অপরাধের মূলে তীব্র দারিদ্র্য ও অভাব ক্রিয়াশীল থাকায় তাদের অপরাধের সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও