সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
একটি শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম কোনটি?
- খ)(2)
'শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ পরিবারের অন্যতম কাজ'- বুঝিয়ে দাও
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছকের "?" চিহ্নিত স্থানে সামাজিক সংগঠনের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজজীবনে উক্ত বিষয়টি কতটুকু প্রভাব ফেলে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান ও প্রথম মাধ্যম হলো পরিবার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিশু জন্মের পর সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় থাকে। তার শারীরিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ, স্বাস্থ্যরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পরিবার গ্রহণ করে থাকে। শিশুর আহার, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে তাকে সমাজে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া পরিবারের একটি অপরিহার্য ও অন্যতম প্রধান জৈবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তাই বলা হয় 'শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ পরিবারের অন্যতম কাজ'।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সামাজিক সংগঠনের 'জ্ঞাতিসম্পর্ক' (Kinship) বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে।
জ্ঞাতিসম্পর্ক হলো এমন এক সামাজিক বন্ধন যা রক্তসম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক বা প্রথাগত রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। নৃবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জ্ঞাতিসম্পর্ক।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যাচ্ছে, '?' চিহ্নিত কেন্দ্র থেকে চারটি বন্ধনের উল্লেখ রয়েছে: রক্তসম্পর্কিত বন্ধন (Consanguineal kinship), বৈবাহিক বন্ধন (Affinal kinship), প্রথাগত বন্ধন এবং কাল্পনিক বন্ধন (Fictive kinship)। এই চারটি হলো জ্ঞাতিসম্পর্কের প্রধান ভিত্তি বা প্রকারভেদ। রক্তসম্পর্কের মাধ্যমে পিতামাতা ও সন্তানের সম্পর্ক, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়তা এবং প্রথাগত বা কাল্পনিক বন্ধনের মাধ্যমে পাতানো আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুতরাং, ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে জ্ঞাতিসম্পর্ককেই নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজজীবনে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয় অর্থাৎ 'জ্ঞাতিসম্পর্ক'-এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
মানবসমাজের আদিম কাল থেকেই জ্ঞাতিসম্পর্ক সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। সমাজজীবনে এর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সামাজিক ঐক্য ও সংহতি: জ্ঞাতিসম্পর্ক মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে। বিপদে-আপদে আত্মীয়-স্বজনরা পরস্পরের পাশে দাঁড়ায়, যা সমাজে সংহতি বজায় রাখে।
২. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা: জ্ঞাতিগোষ্ঠীর নিয়ম-কানুন, আদর্শ ও মূল্যবোধ সদস্যদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি ব্যক্তিকে বিচ্যুত আচরণ থেকে বিরত রাখে এবং মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করে।
৩. অধিকার ও মর্যাদা নির্ধারণ: সমাজে একজন ব্যক্তির পদমর্যাদা, ভূমিকা এবং অধিকার কী হবে, তা অনেকাংশেই জ্ঞাতিসম্পর্কের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া বংশমর্যাদা জ্ঞাতিসম্পর্কের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
৪. সম্পত্তির উত্তরাধিকার: জ্ঞাতিসম্পর্কের নীতিমালার ভিত্তিতেই পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইনগত ও প্রথাগতভাবে বণ্টন করা হয়।
৫. বিবাহ ও পরিবার গঠন: সমাজে কার সাথে বিবাহ বৈধ বা নিষিদ্ধ (যেমন রক্তসম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধকরণ বা অজাচার নিষেধাজ্ঞা), তা জ্ঞাতিসম্পর্কের নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞাতিসম্পর্ক শুধু রক্ত বা বিবাহের বন্ধন নয়, বরং এটি সমাজকে সুসংহত ও সুশৃঙ্খল রাখতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই সমাজজীবনে এর প্রভাব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও