ইতিহাস ২য় পত্র • প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অব নেশনস • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আড়পাড়া ও জামতৈল গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বিষয়টির মীমাংসার জন্য বসে একতরফাভাবে আড়পাড়াকে দায়ী করে এবং তার উপর ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয়। একতরফা এ রায়ের খেসারত একসময় সকল গ্রামকেই দিতে হয়।
- ক)(1)
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়?
- খ)(2)
'লিজিয়ন অব অনার' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী- তোমার পাঠ্যপুস্তকের। আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (League of Nations) ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লিজিয়ন অব অনার' (Legion of Honour) হলো ১৮০২ সালে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কর্তৃক প্রবর্তিত ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক ও সামরিক সম্মাননা। যোগ্যতাভিত্তিক সমাজ গঠনের অংশ হিসেবে সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি নাগরিকদের এই পদকে ভূষিত করা হতো, যা বংশমর্যাদার পরিবর্তে প্রতিভাকে মূল্যায়ন করত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ১৯১৯ সালের অপমানজনক 'ভার্সাই চুক্তি' (Treaty of Versailles)-র সাথে সংশ্লিষ্ট।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দুটি গ্রামের মধ্যকার সংঘর্ষ বহু গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মীমাংসার নামে একতরফাভাবে আড়পাড়া গ্রামকে দায়ী করে সব ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর বিজয়ী মিত্রশক্তি প্যারিস শান্তি সম্মেলনে পরাজিত জার্মানির ওপর একতরফাভাবে ভার্সাই চুক্তি চাপিয়ে দেয়। চুক্তির ২৩১ নম্বর ধারায় জার্মানিকে যুদ্ধের একমাত্র অপরাধী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাদের ওপর বিশাল অঙ্কের যুদ্ধক্ষতিপূরণ, ভূখণ্ড বণ্টন এবং সামরিক সংকোচন চাপিয়ে চরমভাবে অপমানিত ও পঙ্গু করে দেওয়া হয়। জার্মানির কোনো মতামত না নিয়েই বিজয়ী শক্তিবর্গ এই চুক্তি একতরফাভাবে কার্যকর করেছিল, যা উদ্দীপকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একতরফা রায়ের মাধ্যমে আড়পাড়ার ওপর বোঝা চাপানোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভার্সাই চুক্তির প্রভাব বিশ্ব ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং ধ্বংসাত্মক ছিল। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জার্মানিতে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা: একতরফা ও জবরদস্তিমূলক ভার্সাই চুক্তি জার্মান জনগণের মধ্যে গভীর জাতীয় অপমানবোধ ও প্রতিশোধস্পৃহা জাগ্রত করে। এটি তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।
২. ফ্যাসিবাদের উত্থান: এই চরম অন্যায্য চুক্তির সুযোগ নিয়ে এডলফ হিটলার উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করেন এবং নাৎসি পার্টির ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়। হিটলার ভার্সাই চুক্তিকে একটি দাসত্বের দলিল আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের ডাক দেন।
৩. জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা: ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমেই সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠিত হলেও তা বৃহৎ শক্তির খেয়ালখুশিমতো ব্যবহৃত হয় এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয়।
৪. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন: ঐতিহাসিকদের মতে, ভার্সাই চুক্তির অন্যায্য ধারার মধ্যেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল। একতরফা এই অবিচারের ফলে মাত্র বিশ বছরের মাথায় ১৯৩৯ সালে মানবজাতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়, যার খেসারত গোটা বিশ্বকেই দিতে হয়েছিল।
সুতরাং, বলা যায় ভার্সাই চুক্তি ইউরোপে স্থায়ী শান্তি আনতে ব্যর্থ হয় এবং এর পরিণতি ছিল মানবজাতির জন্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও