সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৬৬↓১৯৬৯↓১৯৭০↓?
- ক)(1)
তমদ্দুন মজলিস কী?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় সালটির তাৎপর্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক চিহ্নে কোন সালটি বসবে? এর সাথে উল্লিখিত সালগুলোর সম্পর্ক নিদের্শ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তমদ্দুন মজলিস হলো ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তা লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের দাবি জানানো হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় সালটি হলো ১৯৬৯ সাল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের বছর হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দুঃশাসন, দমন-পীড়ন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'র বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা এবং আওয়ামী লীগের ৬ দফার ভিত্তিতে এই আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। আসাদ, রুস্তম, ডা. মিলন ও সার্জেন্ট জহুরুল হকের মতো বীরদের আত্মত্যাগের ফলে আন্দোলনটি দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
এই অভ্যুত্থানের ফলেই পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটায় এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পথ সুগম করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক চিহ্নে ১৯৭১ সালটি বসবে, যা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের বছর।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সালগুলোর সাথে ১৯৭১ সালের গভীর ও অবিচ্ছেদ্য কার্যকারণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিটি ঘটনাই বাঙালি জাতিকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে:
১. ১৯৬৬ সাল: এ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ 'ছয় দফা' দাবি পেশ করেন, যা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।
২. ১৯৬৯ সাল: ছয় দফার ওপর ভিত্তি করেই ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, যা পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ভিত নাড়িয়ে দেয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী ঐক্য গড়ে তোলে।
৩. ১৯৭০ সাল: গণঅভ্যুত্থানের ফলেই আইয়ুবের পতনের পর ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাঙালির স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির প্রতি স্পষ্ট গণরায় দেয়।কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এই নির্বাচনী রায় মেনে না নিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয় ও একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। অতএব, ১৯৬৬, ১৯৬৯ ও ১৯৭০ সালের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের রূপ নেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও