ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

ঘটনা ১: বাংলাদেশে অসংখ্য মাজার রয়েছে। এই মাজারগুলোতে ভন্ড সাধু ও সেবকরা মাজারে শায়িত পিরের আদি ভৌতিক ও অতিলৌকিক ক্ষমতার গুণকীর্তন প্রকাশ করে বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করে। মূলত এটিই হলো ধর্ম-ব্যবসা। ঘটনা ২: জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও দেশের মানুষের সমস্যা, দেশের আর্থিক ও জনকল্যাণমূলক সকল বিষয়ে সংসদে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  1. ক)

    খুলাফায়ে রাশেদিনের সময়কাল লেখো।

    (1)
  2. খ)

    'রিদ্দা আন্দোলন' কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মাজারকেন্দ্রিক ভন্ড সাধু-সেবকদের সাথে খলিফা আবু বকর (রা)-এর শাসনামলের কোন গোষ্ঠীর মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনা ২-এর আলোকে 'মালিশ-উশ-শূরার' গঠন ও কার্যপরিধির বৈপরীত্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খুলাফায়ে রাশেদিনের সময়কাল হলো ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত (মোট প্রায় ৩০ বছর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'রিদ্দা' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ স্বধর্মত্যাগ করা বা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়া। মহানবি (স)-এর ওফাতের পর আরবের কতিপয় গোত্র ইসলামের মূল অনুশাসন মানতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং অনেকে মিথ্যা নবুওয়াত দাবি করে। এই সামগ্রিক ধর্মত্যাগ ও বিদ্রোহমূলক তৎপরতাকে ইতিহাসে 'রিদ্দা আন্দোলন' বলা হয়। প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা) অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে অভিযান পরিচালনা করে এ আন্দোলন দমন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনা ১-এ বর্ণিত মাজারকেন্দ্রিক ভণ্ড সাধু-সেবকদের সাথে খলিফা আবু বকর (রা)-এর শাসনামলের ভণ্ড নবিদের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    মহানবি (স)-এর ওফাতের পূর্বে ও পরে আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের নবি দাবি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে শুরু করে। এদের মধ্যে আসওয়াদ আনসি, মুসায়লিমা কাজ্জাব, তুলায়হা ও সাজাহ অন্যতম ছিল। তারা অলৌকিক বা ভ্রান্ত ক্ষমতার ভান দেখিয়ে পার্থিব স্বার্থ, ক্ষমতা ও অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেছিল।

    উদ্দীপকের মাজারকেন্দ্রিক ভণ্ড সাধুরা যেমন পিরের মনগড়া অলৌকিক ক্ষমতার মিথ্যা গুণকীর্তন করে ধর্ম-ব্যবসা ও অর্থ উপার্জনে লিপ্ত, তেমনি আবু বকর (রা)-এর সময়ে ভণ্ড নবিরাও ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে চেয়েছিল। খলিফা আবু বকর (রা) অত্যন্ত কঠোরভাবে এদের দমন করে ইসলামের পবিত্রতা রক্ষা করেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনা ২-এ আধুনিক আইনসভার (জাতীয় সংসদ) সাথে খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসনব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ 'মজলিস-উশ-শূরা'র গঠন ও কার্যপরিধিতে কিছু বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গঠনগত বৈপরীত্য:
    জাতীয় সংসদ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক দলভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও দলীয় আসন বণ্টন থাকে। অপরপক্ষে, খুলাফায়ে রাশেদিনের 'মজলিস-উশ-শূরা' কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটির মাধ্যমে গঠিত হয়নি; বরং সাহাবিদের মধ্য থেকে তাকওয়া, প্রজ্ঞা, ধর্মীয় জ্ঞান, বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠার ভিত্তিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এটি গঠিত হয়েছিল। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দল বা বিরোধী দলের ধারণা ছিল না।

    ২. কার্যপরিধি ও সার্বভৌমত্বের বৈপরীত্য:
    জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা, যা সংবিধান অনুযায়ী নতুন আইন তৈরি, সংশোধন বা বাতিল করার সার্বভৌম ক্ষমতা রাখে। অন্যদিকে, মজলিস-উশ-শূরা কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক বিধান পরিবর্তন করে নতুন কোনো সার্বভৌম আইন তৈরি করতে পারত না। তাদের মূল কাজ ছিল কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, সামাজিক, বিচারিক ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে খলিফাকে পরামর্শ দেওয়া এবং ইজতিহাদের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের করা। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই চূড়ান্ত হলেও মজলিস-উশ-শূরায় ন্যায়বিচার ও শরিয়াহর মানদণ্ডই ছিল মুখ্য।

    সুতরাং, জাতীয় সংসদ আধুনিক গণতান্ত্রিক আইন প্রণয়নকারী সংস্থা হলেও মজলিস-উশ-শূরা ছিল ধর্মভিত্তিক, নৈতিক ও কল্যাণকামী এক অনন্য পরামর্শমূলক পরিষদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন