মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: তছর একজন চাকরিজীবী। সুযোগ পেলেই নিজের স্বার্থে কাজ করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে, মাঝে মধ্যে ফাইল আটকিয়ে অবৈধ সুযোগ নেয়। মানুষ তাকে অপছন্দ করে।দৃশ্যকল্প-২: স্বল্প আয়ের সংসারে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি থাকার কারণে পারুল গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত খাবার পায়নি। সে একটি অপুষ্ট সন্তানের জন্ম দেয়। স্বচ্ছল পরিবারের চম্পা গর্ভবতী। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দুর্ব্যবহারে সবসময় সে মনমরা হয়ে থাকতো, আতঙ্কে দিন। কাটাতো, নিজেকে অসহায় ভাবতো। সেও একটি বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেয়।

  1. ক)

    বংশগতি কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন বাল্যকালকে 'দলগত বয়স' বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    তছরের ক্ষেত্রে আচরণের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পারুল অপুষ্ট ও চম্পা বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে জন্ম পূর্ববর্তী কোন উপাদানের প্রভাব রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাতাপিতার শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ যে প্রক্রিয়ায় বা জৈবিক উপায়ে তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে স্থানান্তরিত বা সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাল্যকালে (বিশেষ করে উত্তর বাল্যকালে) শিশুদের মধ্যে সমবয়সী দলের সঙ্গে মেলামেশা, খেলাধুলা এবং দলের নিয়মকানুন মেনে চলার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ বয়সে শিশুরা পরিবারের চেয়ে বন্ধুদের দলের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে ভালোবাসে এবং দলের স্বীকৃতি ও নেতৃত্ব পেতে আগ্রহী হয়। এই সামাজিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা বাল্যকালকে 'দলগত বয়স' (Gang Age) বলে অভিহিত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে তছরের ক্ষেত্রে অসামাজিক বা সমাজবিরোধী আচরণের (Anti-social behavior) দিকটি ফুটে উঠেছে।

    মনোবিজ্ঞানে সামাজিক প্রত্যাশা, নৈতিক মানদণ্ড ও আইনের পরিপন্থী আচরণকে অসামাজিক আচরণ বলা হয়। এ ধরনের আচরণে ব্যক্তি নিজের স্বার্থোদ্ধারের জন্য অন্যের ক্ষতিসাধন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অন্যায় পথ বেছে নিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

    উদ্দীপকের তছর একজন চাকরিজীবী হয়েও নিজের স্বার্থের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং অবৈধ সুযোগের আশায় মানুষের কাজ আটকে রাখে। তার এই অনৈতিক ও সমাজবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণেই মানুষ তাকে অপছন্দ করে। সুতরাং, তছরের এই কর্মকাণ্ড সমাজবিরোধী আচরণের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পারুলের অপুষ্ট এবং চম্পার বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে জন্মপূর্বকালীন পরিবেশগত উপাদানের—বিশেষ করে মায়ের পুষ্টিহীনতা এবং তীব্র আবেগীয় বা মানসিক চাপের প্রভাব রয়েছে।

    গর্ভকালীন অবস্থায় শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি সম্পূর্ণভাবে মায়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসিক সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। গর্ভকালীন প্রভাবকারী গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো হলো:
    ১. মায়ের পুষ্টি: গর্ভকালে মায়ের সুষম খাদ্য ও পুষ্টি অপরিহার্য। মা যদি পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার না পান, তবে ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং কম ওজনের বা অপুষ্ট শিশুর জন্ম হয়। পারুলের ক্ষেত্রে সংসারের অভাবের কারণে গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় পুষ্টির ঘাটতি ঘটে, ফলে সে অপুষ্ট সন্তান জন্ম দেয়।
    ২. মায়ের আবেগ ও মানসিক চাপ: গর্ভবতী মা যদি সার্বক্ষণিক মানসিক অশান্তি, পারিবারিক দুর্ব্যবহার, আতঙ্ক ও বিষণ্নতায় ভোগেন, তবে তার অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে অধিক মাত্রায় হরমোন (যেমন কর্টিসল, অ্যাড্রেনালিন) নিঃসৃত হয়। এটি প্ল্যাসেন্টা বা অমরা ভেদ করে ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে, যা জন্মগত ত্রুটি বা বিকলাঙ্গতার ঝুঁকি সৃষ্টি করে। চম্পার ক্ষেত্রে স্বামীর ও শ্বশুরবাড়ির দুর্ব্যবহার, আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব তার দেহে গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছে, যা গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক গঠনে বাধা সৃষ্টি করে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দিয়েছে।

    অতএব, স্পষ্টতই দেখা যায় যে জন্মপূর্বকালীন মায়ের পুষ্টির অভাব ও মারাত্মক নেতিবাচক আবেগীয় চাপই পারুল ও চম্পার সন্তানদের এই পরিণতির মূল কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন