ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
(اَلصَّرْعَةُ)কুস্তি লড়াই কী?
- খ)(2)
চরিত্র বিচারে কোন ব্যক্তি নিকৃষ্টতম? ব্যাখ্যা কর
- গ)(3)
উদ্দীপকে ১নং উৎসটি কী? ব্যাখ্যা কর
- ঘ)(4)
কেন উম্মতে মুহাম্মদি কোনো ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না বলে বিবেচিত হয়? উদ্দীপকের ৩নং উৎসের আলোকে বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাদিসের পরিভাষায় ‘কুস্তি লড়াই’ বা ‘আস-সুরাআহ’ (اَلصُّرَعَةُ) দ্বারা শারীরিকভাবে প্রতিপক্ষকে আছড়ে ফেলা বীরকে বোঝায় না, বরং প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চরিত্র বিচারে সেই ব্যক্তি নিকৃষ্টতম, যার অনিষ্ট ও কটু আচরণের ভয়ে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে বা এড়িয়ে চলে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মর্যাদার দিক দিয়ে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে সেই ব্যক্তি, যার কটু ভাষা বা দুরাচরণের ভয়ে মানুষ তাকে বর্জন করেছে (বুখারি ও মুসলিম)। ইসলামে সৎ চরিত্র ও উত্তম আচরণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যার ব্যবহারে মানুষ কষ্ট পায় এবং যার অপকর্মের ভয়ে সমাজে মানুষ তাকে এড়িয়ে চলতে বাধ্য হয়, সে আল্লাহর দরবারে চরম নিন্দনীয় ও নিকৃষ্ট ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১নং উৎসটি হলো ইসলামী শরিয়তের প্রথম ও প্রধান উৎস—'আল-কুরআন'।
ইসলামী শরিয়তের মৌলিক উৎস চারটি: ১. আল-কুরআন, ২. আল-হাদিস/সুন্নাহ, ৩. আল-ইজমা এবং ৪. আল-কিয়াস। উদ্দীপকের ছকে ইসলামী শরিয়তের উৎসগুলো নির্দেশ করা হয়েছে, যেখানে ২ নম্বরে আল-হাদিস এবং ৪ নম্বরে আল-কিয়াস উল্লেখ আছে। সুতরাং ক্রমানুসারে ১নং চিহ্নিত উৎসটি হলো ‘আল-কুরআন’।
আল-কুরআন হলো মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী, যা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে। মানবজাতির হেদায়েত এবং শরিয়তের যাবতীয় বিধিবিধানের মূল ভিত্তি এই মহাগ্রন্থ। অন্যান্য সকল উৎস আল-কুরআনেরই অনুগামী ও ব্যাখ্যাস্বরূপ। তাই এটি শরিয়তের সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত প্রমাণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ৩নং উৎসটি হলো ইসলামী শরিয়তের তৃতীয় উৎস—'আল-ইজমা'। উম্মতে মুহাম্মদি কোনো ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না, কারণ মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যৎবাণী ও আল্লাহর বিশেষ রহমত দ্বারা এই উম্মতের সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে নিষ্পাপ ও সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ইজমা অর্থ ঐকমত্য পোষণ করা। পরিভাষায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগে মুসলিম উম্মাহর মুজতাহিদগণের কোনো শরিয়তি বিষয়ের ওপর ঐকমত্যে পৌঁছানোকে ইজমা বলা হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, "আমার উম্মত কখনো কোনো ভ্রষ্টতা বা ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না" (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)। এছাড়া অন্য বর্ণনায় রয়েছে, "আল্লাহর হাত (রহমত ও সাহায্য) জামায়াত বা ঐক্যের ওপর রয়েছে।" এ হাদিসগুলোর মূল বার্তা হলো, ব্যক্তিগতভাবে কোনো আলেম বা ব্যক্তির মতামতে ভুলত্রুটি হতে পারলেও সমগ্র উম্মতের মুজতাহিদ আলেমগণ যখন কোনো দ্বীনি বিষয়ে একমত হন, তখন তা কখনোই শরিয়তবিরোধী বা বিভ্রান্তিকর হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে সামগ্রিকভাবে সত্যের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করেছেন। তাই ইজমার মাধ্যমে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত বা বিধান অকাট্য ও নির্ভুল বলে বিবেচিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও