সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

⇒\Rightarrow জন্মঃ ১৭৯৮ খ্রিঃ ⇒\Rightarrow প্রধান গ্রন্থঃ “The Positive Philosophy”⇒\Rightarrow প্রবক্তাঃ দৃষ্টবাদ

  1. ক)

    ‘আল-আসাবিয়া’ ধারণাটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর ?

    (1)
  2. খ)

    শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বের মূল বক্তব্য কী ? বুঝিয়ে বলো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সমাজবিজ্ঞানীর কথা বলা হয়েছে? তার পরিচয় বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মানবসমাজের বিকাশে উক্ত সমাজবিজ্ঞানীর তত্ত্বটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘আল-আসাবিয়া’ ধারণাটি সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুনের।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জার্মান সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কসের শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বের মূল বক্তব্য হলো—আজ পর্যন্ত মানবসমাজের সমস্ত লিখিত ইতিহাস মূলত শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। উৎপাদন পদ্ধতির পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজে মূলত দুটি প্রধান বিরোধী শ্রেণির (শোষক ও শোষিত শ্রেণি, যেমন—মালিক ও দাস, সামন্তপ্রভু ও ভূমিদাস, এবং পুঁজিপতি ও শ্রমিক) সৃষ্টি হয়। এই দুই শ্রেণির স্বার্থের সংঘাত ও দ্বন্দ্বই সমাজ পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফরাসি দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁতের (Auguste Comte) কথা বলা হয়েছে।

    অগাস্ট কোঁৎ ১৭৯৮ সালের ১৯ জানুয়ারি ফ্রান্সের মঁপেলিয়ে শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিই সর্বপ্রথম ১৮৩৯ সালে ‘Sociology’ (সমাজবিজ্ঞান) শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠা করেন। তাকে দৃষ্টবাদের (Positivism) প্রবক্তা বলা হয়। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘The Positive Philosophy’ (Cours de Philosophie Positive) এবং ‘The System of Positive Polity’। কোঁৎ সামাজিক ঘটনাবলিকে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরীক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবসমাজের বিকাশে অগাস্ট কোঁতের প্রদত্ত অন্যতম প্রধান তত্ত্ব হলো ‘মানব জ্ঞানের ত্রিস্তর সূত্র’ (The Law of Three Stages), যা মানবচিন্তা ও সমাজের বিবর্তনকে বিশ্লেষণ করে।

    কোঁতের মতে, মানবমন এবং মানবসমাজ তিনটি মৌলিক স্তরের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়েছে:

    ১. ধর্মতাত্ত্বিক স্তর (Theological Stage): এই স্তরে মানুষ জগতের সমস্ত ঘটনা, সৃষ্টি এবং নিয়মাবলিকে কোনো না কোনো অতিপ্রাকৃতিক বা ঐশ্বরিক শক্তির ইচ্ছা বলে বিশ্বাস করত। পুরোহিত ও সামরিক শাসকরা ছিল এ সমাজের নিয়ন্ত্রক।

    ২. অধিবিদ্যামূলক স্তর (Metaphysical Stage): এটি হলো ধর্মতাত্ত্বিক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে রূপান্তরের পর্যায়। এখানে অতিপ্রাকৃতিক শক্তির পরিবর্তে বিমূর্ত বা কাল্পনিক ধারণার (যেমন—প্রকৃতি, অদৃশ্য শক্তি) মাধ্যমে জাগতিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যা দেওয়া হতো। এ যুগে দার্শনিক ও আইনবিদরা সমাজে প্রাধান্য পেত।

    ৩. প্রত্যক্ষ বা দৃষ্টবাদী স্তর (Positive Stage): এটি মানব সমাজের সর্বোচ্চ ও বৈজ্ঞানিক স্তর। এই স্তরে মানুষ কল্পনা বা অতিপ্রাকৃতিক ধারণা বর্জন করে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে সত্য ও কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান করে। এই স্তরে বিজ্ঞানীরা সমাজের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    অতএব, অগাস্ট কোঁতের এই ত্রিস্তর তত্ত্ব মানবসমাজের অন্ধবিশ্বাস থেকে যুক্তি ও বিজ্ঞানের পথে উত্তরণের রূপরেখা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন