‍ইতিহাস ১ম পত্র • স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' রাজ্যের দুটি অংশ ছিল। অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র কিন্তু জনবহুল অঞ্চলটি পদানত করে রাখার জন্য এক রাতের আধারে নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে। ঐ অঞ্চলের জনগণ পাল্টা জবাব হিসেবে যুদ্ধ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত, শাসকগোষ্ঠী পরাজিত হয় এবং একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম লাভ করে।

  1. ক)

    পাক-ভারত যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    বুদ্ধিজীবী হত্যাঁকাণ্ড বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনা সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাক-ভারত যুদ্ধ ১৯৬৫ সালে (৬ সেপ্টেম্বর) সংঘটিত হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার নৃশংস ঘটনাকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড বলা হয়। বাঙালি জাতিকে মেধা ও মননশীলতাহীন করে পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত হিসেবে মূলত বিজয়ের প্রাক্কালে, বিশেষ করে ১৪ ডিসেম্বর এই হত্যাকাণ্ড ব্যাপক পরিসরে চালানো হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সামঞ্জস্য রয়েছে।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই ভৌগোলিকভাবে বিভক্ত দুটি অংশের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান ছিল অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র কিন্তু জনবহুল অঞ্চল। পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী এই অঞ্চলের স্বাধিকার আন্দোলন দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে বাঙালি জাতি মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। উদ্দীপকে 'ক' রাজ্যের শাসকগোষ্ঠীর রাতের আঁধারে গণহত্যা এবং জনগণের পাল্টা সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিত্রটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহকে হুবহু নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি নির্দেশ করে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে, যার তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম।

    প্রথমত, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে 'বাংলাদেশ' নামক একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

    দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে বাঙালি জাতির ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরের পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণ, বঞ্চনা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অবসান ঘটে। এটি ছিল একটি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও জাতিসত্তার বিজয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ স্নায়ুযুদ্ধের সমীকরণের মধ্যেও একটি নিপীড়িত জাতি সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা পরিবর্তন করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা বাঙালির জাতীয় জীবনে আত্মমর্যাদা এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন