সমাজকর্ম ২য় পত্র • মৌলিক মানবিক চাহিদা • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
তাসনুভা যাহরা তৃতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি অবসর সময় সে টেলিভিশন দেখে গল্পের বই পড়ে এবং খেলাধুলা করে। যা তার মানসিক বিকাশ ও সামাজিকীকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ক)(1)
মানব সভ্যতার ধারক ও বাহক কী?
- খ)(2)
মৌলিক মানবিক চাহিদা হিসেবে খাদ্য কেন প্রয়োজন ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রকাশিত মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানব সভ্যতার ধারক ও বাহক হলো শিক্ষা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবদেহের পুষ্টিসাধন, বৃদ্ধি, শক্তি ও কর্মক্ষমতা অর্জন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খাদ্য অপরিহার্য। খাদ্য ছাড়া মানুষ বা কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না। খাদ্য গ্রহণ ব্যাহত হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জীবনের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। তাই বেঁচে থাকার প্রধান ও অপরিহার্য জৈবিক পূর্বশর্ত হিসেবে খাদ্য অন্যতম মৌলিক মানবিক চাহিদা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'চিত্তবিনোদন' নামক মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
চিত্তবিনোদন হলো এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক বিনোদনমূলক চাহিদা যা মানুষের মানসিক অবসাদ ও একঘেয়েমি দূর করে চিত্তকে প্রফুল্ল ও কর্মোদ্দীপক করে তোলে। এটি মানুষের সুস্থ মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক মূল্যবোধ অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে তাসনুভা পড়ালেখার পাশাপাশি অবসর সময়ে টেলিভিশন দেখে, গল্পের বই পড়ে এবং খেলাধুলা করে, যা তার মানসিক বিকাশ ও সামাজিকীকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবসর সময়ের এসব আনন্দদায়ক ও মানসিক বিকাশমূলক কার্যক্রম মূলত চিত্তবিনোদনের চাহিদাকেই নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রকাশিত মৌলিক মানবিক চাহিদাটি হলো 'চিত্তবিনোদন'। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চিত্তবিনোদন চাহিদা পূরণের বর্তমান পরিস্থিতি এখনো প্রত্যাশিত মানের নয় এবং নানাবিধ প্রতিকূলতায় পূর্ণ।
বর্তমান বাংলাদেশে নগরায়নের ফলে খেলার মাঠ, উদ্যান ও উন্মুক্ত পার্কের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে শিশু-কিশোররা মুক্ত পরিবেশে খেলাধুলা ও দৌড়ঝাঁপের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিনোদনের শারীরিক মাধ্যমগুলোর অভাবে বর্তমান প্রজন্ম টেলিভিশন, স্মার্টফোন, ভিডিও গেম এবং ইন্টারনেটের মতো কৃত্রিম ও একাকী বিনোদনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে শিশুদের শারীরিক সমস্যাসহ মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দেখা দিচ্ছে।
তাছাড়া সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক সময় কিশোর-কিশোরীরা বিপথগামী হচ্ছে। গ্রামীণ পর্যায়ে লোকনাটক, যাত্রা, মেলা ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। তবে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে কিছু ক্ষেত্রে খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার, শিশুপার্ক নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জাতি গঠনে চিত্তবিনোদনের বর্তমান সংকট দূর করে উন্মুক্ত পরিবেশ ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা একান্ত আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও